রাজবাড়ীতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিন দফা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ সাতজনের বিরুদ্ধে রোববার রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা হয়েছে। ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলো- রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে রিফাত শেখ, হবিবর শেখের ছেলে আব্বাস, রইচ শেখের ছেলে সোহাগ ও জয়নাল শেখের ছেলে আসাদ। পুলিশ এজাহারভুক্ত চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করেছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই কিশোরী উপজেলা একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত রিফাতও একই স্কুলের ছাত্র। এ সূত্রে তাদের পরিচয় ও সখ্যতা। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রিফাত ও তার বন্ধুরা শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান দেখানোর কথা বলে ওই ছাত্রীকে সদর উপজেলায় বাসার মৃধার বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই সময় ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে রিফাত ও তার বন্ধুরা। ঘটনা প্রকাশ করলে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেয়। এরপর গত ৩ মার্চ আসামি আব্বাস ও আসাদ ওই ছাত্রীকে ফোন করে আবার বাসারের বাড়িতে যেতে বলে। সেখানে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। একইভাবে গত ২৪ মার্চ তাকে একই স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে আসামিরা। কিন্তু লাজলজ্জা আর ভিডিও ছড়ানোর ভয়ে মেয়েটি কাউকে কিছু বলেনি। এসব ঘটনায় ওই ছাত্রী মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তার মা তার কাছে জানতে চাইলে সে সবকিছু খুলে বলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে।