হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে কিশোরগঞ্জ শহরের গৌরাঙ্গবাজার, স্টেশন সড়কের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, নতুনবাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে হেফাজত নেতা-কর্মীসহ জামায়াত-বিএনপির কতিপয় নেতা-কর্মী এসব হামলা চালায়।

দুপুর ১২টার দিকে তারা সম্মিলিতভাবে শহরের স্টেশন সড়কের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোটা শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় সদর থানার ওসি আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ ১১ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের পর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় হরতালকারীরা। শহরের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে হরতাল সমর্থকরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পরে শহরের গৌরাঙ্গবাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে হরতালকারীরা। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক গৌরাঙ্গবাজার এলাকায় ছুটে আসেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবগুলো ইউনিট একত্রিত হয়ে টিয়ারগ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজল বলেন, রোববার অফিসে কোনো কর্মী ছিল না। এর আগে কোনো হরতালে কখনও দলীয় কার্যালয়ে হামলা হয়নি। অফিস কর্মী ও নেতা শূন্য থাকায় জামায়াত-শিবিরসহ হেফাজতের কতিপয় স্বার্থাম্বেষীরা আ’লীগ কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর করে।

তবে জেলা ইমাম ও উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী বলেন, কারা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তা তাদের জানা নেই।

মন্তব্য করুন