গত রোববার হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব ভাংচুর , প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার রিয়াজ উদ্দিন জামিসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাংবাদিকরা। এ সময় তারা হেফাজতসহ সব উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দেন।  

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি পিযুষ কান্তি আচার্য্যরে সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক মনির হোসেনের পরিচালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, সাবেক সভাপতি খ আ ম রশিদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মনজুরুল আলম, সাবেক সভাপতি মো. আরজু, সৈয়দ মিজানুর রেজা, সাংবাদিক জয়দুল হোসেন, সাংবাদিক আবদুন নূর, আ ফ ম কাউছার এমরান, সৈয়দ মোহাম্মদ আকরাম, মফিজুর রহমান লিমন, দীপক চৌধুরী বাপ্পী, মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁন বিটু, মো. নজরুল ইসলাম শাহজাদা, মোশাররফ হোসেন বেলাল, বিশ্বজিৎ পাল বাবু, হাবিবুর রহমান পারভেজ, সরাইল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান বাবুল, নবীনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জালাল উদ্দিন মনির, আশুগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, কসবা প্রেস ক্লাবের সভাপতি খ ম হারুনুর রশীদ ঢালী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাবে হামলা পরিকল্পিত। সাংবাদিক সমাজকে স্তব্ধ করে দিতেই হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবে হামলা ভাংচুর এবং সভাপতি রিয়াজউদ্দিন জামিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ও বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে নাজেহাল করে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

বক্তারা জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য হেফাজতে ইসলামসহ উগ্র ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দেন এবং রোববার হরতাল চলাকালে জেলায় হেফাজতের তাণ্ডবে প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

একই সঙ্গে তারা হেফাজতের তাণ্ডব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার দাবি করেন এবং ঘটনার সময় কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরব ভূমিকা পালন করে তা খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।