চাঁদপুরের মতলবের এক স্কুলছাত্রীকে (১৮) নারায়ণগঞ্জে এনে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর চিটাগাং রোডের বটতলা এলাকায় তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি-না তাও বেরিয়ে আসবে। তবে মৃতদেহে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

স্কুলছাত্রীর এক আত্মীয় জানান, মতলবের স্থানীয় একটি স্কুলে পড়তেন ওই ছাত্রী। এবার তার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। তার বাবা ছিলেন গ্রাম্য ডাক্তার। তিনি কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রাইভেট পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন ওই ছাত্রী। তখন একই গ্রামের বাসিন্দা রিয়াসাদ ও শহীদুল্লাহ তাকে ফুসলিয়ে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসে। সেদিন দুপুরে রিয়াসাদ মেয়েটির ভাইকে ফোন করে জানায়, তারা নারায়ণগঞ্জে রয়েছে। দুপুরে একসঙ্গে খেয়েছে। তবে বিকেলে ওই যুবক ফোন করে বলে, মেয়েটি অচেতন অবস্থায় চিটাগাং রোড বটতলা এলাকায় পড়ে আছে। স্বজনরা সন্ধ্যার পর পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

স্বজনরা জানান, মেয়েটির সঙ্গে রিয়াসাদ নামে ওই যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তারা শুনেছেন। এর সুযোগ নিয়ে রিয়াসাদ ও শহীদুল্লাহ মিলে কৌশলে তাকে মতলব থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যায়। স্বজনের দাবি, সেখানে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে তাকে ধর্ষণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে তেমন আলামত পাওয়া গেছে। সম্ভবত মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক খাওয়ানোর ফলে তার মৃত্যু হয়।