নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার রয়েল রিসোর্টে 'দ্বিতীয় স্ত্রী'সহ অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। 

শনিবার রাতে সোনারগাঁওয়ের হাবিবপুর ঈদগাহ মাঠে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, 'আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা শান্ত থাকেন। আমাকে সাংবাদিক ও পুলিশ ভাইয়েরা যথেষ্ট সম্মান দিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু বাইরের কিছু লোক খারাপ আচরণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।'

তিনি আরও বলেন, 'মাদ্রাসা বন্ধ থাকার কারণে ঘুরতে এসেছি। কিছুক্ষণ ঘুরেফিরে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলাম। বিকেলে পানামনগরীতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। এর মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।'  

এর আগে মামুনুল হককে এক নারীসহ সোনারগাঁও উপজেলায় ওই রিসোর্টে পাওয়ার পর তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের কাছ থেকে 'ছিনিয়ে নিয়ে যায়' হেফাজতের কর্মীরা। ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন মামুনুল হক। তবে পুলিশ বলছে, তাকে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ওই রিসোর্টে ব্যাপক ভাংচুর চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। এতে রিসোর্টের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সোনারগাঁওয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম, এসিল্যান্ড গোলাম মোস্তফা মুন্না, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশাররফ হোসেন, সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) তবিদুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক সাংবাদিক। সমকালের সোনারগাঁও প্রতিনিধিও অবরুদ্ধ হন। এক পর্যায়ে মাওলানা মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে 'ছিনিয়ে' নিয়ে যায় বিক্ষুব্ধ হেফাজত কর্মীরা। পরে তারা মিছিল করে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনার এক পর্যায়ে তাকে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে বিকেল থেকে মাওলানা মামুনুল হককে ওই রিসোর্টে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশসহ সাংবাদিককরা।