নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় অন্তত অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি লঞ্চ ডুবে গেছে।

রোববার সন্ধ্যায় মদনগঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সামনের এ ঘটনায় পাঁচ নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক তাদের কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও ছয়জন। তারা হলেন- মহারানী, মো. সোলেমান, তার স্ত্রী সালমা বেগম, সুনিতা সাহা, তার দুই ছেলে বিকাশ সাহা ও অনিক সাহা। সবার বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। এমভি রাবিতা আল হাসান নামে লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল থেকে ৫টা ৫৬ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারি রাতে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া লঞ্চটির পাঁচ নারী যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সময় নদীর তীর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এসকে-৩ নামে একটি কার্গো জাহাজ বেপরোয়া গতিতে লঞ্চের পেছন দিকে সজোরো ধাক্কা দিলে সেটি দুই ভাগ হয়ে ডুবে যায়। ঘটনার পর লঞ্চে থাকা বেশ কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

ওই সময় নদীর ঘাট থেকে বেশ কিছু নৌকা ও ট্রলার গিয়ে ২৫-৩০ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীকে অচেতন অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পরপর ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেখানে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত সোয়া ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল চার নারীর লাশ উদ্ধার করে। তাদের দু'জন বোরকা পরা ও দু'জনের হাতে শাঁখা ছিল।

লঞ্চের যাত্রী দিপু বলেন, তিনি তার মা মহারানীকে মুন্সীগঞ্জে পৌঁছে দিতে লঞ্চে করে যাচ্ছিলেন। লঞ্চটি নির্মাণাধীন শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছাকাছি যাওয়ার পর পেছন থেকে এসকে-৩ নামে কার্গো জাহাজটি লঞ্চ বরাবর দ্রুত গতিতে আসতে থাকে। ওই সময় লঞ্চের পেছনে থাকা যাত্রীরা হাত নেড়ে লঞ্চ বরাবর না এসে পাশ দিয়ে যেতে ইশারা করেন। কিন্তু কার্গো থেকে লঞ্চটিকে সরে যেতে বলা হয়। এরপর কিছু বুঝে উঠার আগেই কার্গো জাহাজটি লঞ্চের পেছনে এসে সজোরা ধাক্কা দিলে সেটি ভেঙে ডুবে যায়।

পেশায় অটোচালক দিপু আরও বলেন, রোববার মা তার সঙ্গে দেখা করতে নারায়ণগঞ্জ এসেছিলেন। ঘটনার পর তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

লঞ্চের যাত্রী মো. সোলেমান ও সালমা দম্পতির দুই মেয়ে বন্যা ও বিউটি বলেন, এক আত্মীয়কে দেখতে রোববার সকালে তাদের বাবা-মা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে নিখোঁজ হন।

লঞ্চের যাত্রী সুনিতা সাহার বোন মনিকা সাহা বলেন, তার বোন সুনিতা ও সুনিতার দুই ছেলে বিকাশ সাহা এবং অনিক সাহা সকালে ঢাকা যান। ফেরার পথে লঞ্চ ডুবে মনিকা ও তার দুই ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক (বন্দর) মোবারক হোসেন বলেন, টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়ার আগে টার্মিনালের ভয়েজ অব ডিক্লারেশন অনুযায়ী ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন।

বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, দুর্ঘটনার পর নদীর পূর্ব তীর থেকে ট্রলার ও নৌকা গিয়ে ১১ জনকে উদ্ধার করে। তবে নদীর পশ্চিম তীরে কতজন সাঁতরে উঠেছে তা তিনি জানাতে পারেননি।

ফায়ার সার্ভিস নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, খবর পেয়ে তার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত ৯টার দিকে তাদের ডুবুরিরা লঞ্চের অবস্থান শনাক্ত করেন। সোয়া ১১টার দিকে চার নারীর লাশ উদ্ধারের কথা জানান তিনি। তবে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।



মন্তব্য করুন