প্রতারণার টাকা দিয়ে হীরার নেকলেস কিনতে গিয়ে ফেঁসে গেছে রফিকুল ইসলাম নামে এক প্রতারক। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের পাগলা থেকে তাকে আটক করে বরিশাল সিআইডির সদস্যরা। সে বিকাশ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য।

শনিবার রাতে এই প্রতারককে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় সে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা আয়ের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। রফিকুল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের ইয়াসিনের ছেলে।

সিআইডি বরিশাল শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার হাতেম আলী জানান, বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের বালিগ্রামের বাসিন্দা বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য শাহজাহান হাওলাদার গত বছর ১১ আগস্ট বিকাশ প্রতারণার শিকার হন। ওই দিন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বিকাশ কাস্টমার কেয়ারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শাহজাহানকে ফোন দেয় এবং তার পিন নম্বর নিয়ে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় শাহজাহান হাওলাদার বাকেরগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। প্রথম তিন মাস মামলাটি বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করে কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। গত নভেম্বরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য বরিশাল সিআইডিতে পাঠানো হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বরিশাল শাখার উপপরিদর্শক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, মামলার প্রমাণ বলতে তাদের কাছে ছিল শাহজাহান হাওলাদারকে প্রতারকের কল করা সিম নম্বরটি। সেটিও ছিল বন্ধ। সিমটি বন্ধ হওয়ার আগের কললিস্ট সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, সিমটির বিকাশ নম্বর থেকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের বিকাশ নম্বরে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪২৮ টাকা পাঠানো হয়েছে। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট এক ব্যক্তি অনলাইনের মাধ্যমে একটি হীরার নেকলেস অর্ডার করে বিকাশের মাধ্যমে দাম পরিশোধ করেন। ওই দিনই ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে তিনি নেকলেসটি বুঝে নেন। তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে নেকলেস কেনা ব্যক্তির ছবি পেয়ে যান তারা।

প্রতারক রফিকুল পুলিশকে জানিয়েছে, এক সময় মোবাইল ফোনে টাকা রিচার্জ ও সিম বিক্রির দোকান ছিল তার। সেখান থেকে প্রতরণার কাজে পারদর্শী হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের সদস্য রয়েছে। এ পর্যন্ত তারা ৩০ থেকে ৪০ জনকে ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।