ঢাকায় আইসিইউ বেড না পাওয়া করোনায় আক্রান্ত কুলসুম আরা (৪০) নামে এক নারীকে বগুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি। 

রোববার সকালে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের আগেই তার মৃত্যু হয়। ওই নারী নওগাঁ জেলা সদরের তিলকপুরের ডাকাহার গ্রামের বাসিন্দা।

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল হোসেন জানান, ঢাকায় বসবাসকারী কুলসুম আরা ৩ এপ্রিল করোনা পরীক্ষা করালে ফল পজিটিভ আসে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকার কোনো হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ বেড না পাওয়ায় স্বজনরা তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

এ জন্য শনিবার রাতেই তারা বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন। রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তারা টিএমএসএস হাসপাতাল ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে পৌঁছান। এরপর করোনা পজিটিভ ওই নারীকে ইসিজি করানোর জন্য জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কিন্তু আগেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান। পরে স্বজনরা তার লাশ নিয়ে যান।

সঙ্গে থাকা এনামুল হক নামে কুলসুম আরার এক স্বজন সমকালের কাছে দাবি করেছেন, ওই নারী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। তার দাবি, ফুসফুস এবং কিডনি রোগ থাকায় তার মৃত্যু হয়েছে। রোগীকে বগুড়ায় আনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকায় সব হাসপাতালে করোনা রোগী। তাই তাকে বগুড়া আনা হয়েছিল।

কুলসুম আরার স্বজনের এমন বক্তব্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, স্বজনদের সরবরাহ করা রেকর্ড অনুযায়ী গৃহবধূ কুলসুম আরা ৩ এপ্রিল ঢাকায় করোনা পরীক্ষা করালে তিনি পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট তার স্বজনরা আমাদের দেখিয়েছেন এবং বলেছেন, ঢাকায় কোনো হাসপাতালে আইসিইউ বেড না পাওয়ায় তারা তাকে বগুড়ায় এনেছেন। এখন হয়তো কোনো কারণে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।