নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনায় সব হারিয়ে নিথর হয়ে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জ শহরের মালপাড়া এলাকার সাধন সাহা। স্ত্রী সুনিতা সাহার (৪০) মরদেহ পেলেও তার দুই সন্তান বিকাশ সাহা (২২) ও আকাশ সাহার (১২) খোঁজ মেলেনি এখনও। সারারাত অপেক্ষার পর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে স্ত্রীর মরদেহ বুঝে পান তিনি।

শহরের মালপাড়া এলাকার স্ত্রী আর দুই ছেলেকে নিয়ে ছিল সাধন সাহার সংসার। রোববার সকালে সাধন সাহার স্ত্রী সুনিতা সাহা দুই ছেলে বিকাশ সাহা ও আকাশ সাহাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা জাতীয় চক্ষু ইন্সটিটিউট হাসপাতালে। আকাশ সাহাকে ডাক্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট হয়ে মুন্সীগঞ্জ ফিরছিলেন তারা। 

সাধন সাহার পরিবারের মতো মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশপাশ এলাকাস্থ মারা যাওয়া পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। সকাল থেকে একের পর এক মরদেহ আসতে থাকে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। তখন মুন্সীগঞ্জ শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আপনজন হারানোর আহাজারিতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতাড়না হয়। 

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবিতে এ পর্যন্ত ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এসব যাত্রীদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলাসহ আশপাশ এলাকায়। এছাড়া এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় লঞ্চডুবির পর রাতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৫ নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার লঞ্চটি উপরে তোলার পর ভেতরে আরও ২৪ মরদেহ মেলে। এর মধ্যদিয়ে মৃতের সংখ্যা দাড়াঁয় ২৯ জনে। এসব যাত্রীদের মরদেহ শনাক্ত করার পর সোমবার বিকেল পর্যন্ত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছিল।

রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সামনে কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যায় লঞ্চটি। এমভি রাবিতা আল হাসান নামে লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল থেকে ৫টা ৫৬ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

ঘটনার সময় নদীর তীর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এসকে-৩ নামে একটি কার্গো জাহাজ বেপরোয়া গতিতে লঞ্চের পেছন দিকে সজোরো ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়। ঘটনার পর লঞ্চে থাকা বেশ কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

ওই সময় নদীর ঘাট থেকে বেশ কিছু নৌকা ও ট্রলার গিয়ে ২৫-৩০ জনকে উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পরপর ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেখানে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। 

মন্তব্য করুন