সরকারি নির্দেশনা ভঙ্গ করে চাঁদপুর শহরে লকডাউনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।  সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। পরে ব্যবসায়ীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে চাঁদপুর পৌরসভার সামনে অবস্থান নেন।

সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি পুনঃরায় হর্কাস মার্কেটের সামনের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে চাঁদপুর টাওয়ারের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। 

এ দিকে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুর রশিদসহ পুলিশ ও রেলওয়ে হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী হুমায়ুন কবির, ফখরুল ইসলাম কালু, শফিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান কিরণসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা চাই লকডাউনে যেহেতু অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে, সেক্ষেত্রে আমাদেরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা ব্যবসায়ীরা। আমরা কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। এজন্য আমাদের দাবি নির্দিষ্ট সময় দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে রেলওয়ে হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, সরকারের দেয়া বিধি নিষেধ মেনে এবং সম্মান জানিয়ে আমরা চলতে চাই। যেসব ব্যবসায়ীরা লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তাদের সঙ্গে আমাদের হর্কাস মার্কেট ব্যবসায়ীরা জড়িত নয়।

তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত লকডাউনের এই এক সপ্তাহ আমরা আগে দেখব। তারপর না হয়, অবস্থা বুঝে আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবো। 

চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুর রশিদ জানান, লকডাউনের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিলটির মূল উদ্যোগ নিয়েছে হাকিম প্লাজার ব্যবসায়ীরা। পরে হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এতে যোগ দিয়েছেন। আমি আমি তাদের বলেছি, সরকারের দেওয়া নির্দেশনা কখনো বিক্ষোভ করে অমান্য করা যাবে না। আপনাদের যদি কোনো দাবি থাকে সেজন্য আপনারা চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে পারেন। ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, করোনা সংক্রমণরোধে লকডাউন সরকারি সিদ্ধান্ত এবং এটি সারা দেশের জন্যই। চাঁদপুরের জন্য আলাদা কোন সিদ্ধান্ত নেই। 

তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও তাদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারি নির্দেশনা তাদের মেনে চলার অনুরোধ করেছি। তা না হলে আমাদের আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।