নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ওপরে উঠানোর পর সোমবার দুপুরে নদীর তীরে ও উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত থাকা সবার নজর কাড়ে একটি দৃশ্য। লঞ্চডুবিতে মারা যাওয়া বীথি আক্তার (২৫) তার ১২ মাসের শিশুকন্যা আরিফাকে বুকে চেপে রেখেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুর সময়ও সন্তানকে আগলে রেখেছিলেন মমতাময়ী মা।

শিশু আরিফাকে নারায়ণগঞ্জ শহরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলন বীথি আক্তার ও তার মা পাকিজা বেগম। 

বীথির শাশুড়ি মিনু বেগম জানান, ডাক্তার দেখানো শেষে রোববার বিকেলে ছেলের বউ ফোন দিয়ে বলল তারা লঞ্চে করে আসছে। এর আধা ঘণ্টা পরই তাদের খোঁজ নেই। ওই ঘটনায় বীথির মা পাকিজা বেগমও মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সামনে কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যায় লঞ্চটি। এমভি রাবিতা আল হাসান নামে লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল থেকে ৫টা ৫৬ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

ঘটনার সময় নদীর তীর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এসকে-৩ নামে একটি কার্গো জাহাজ বেপরোয়া গতিতে লঞ্চের পেছন দিকে সজোরো ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়। ঘটনার পর লঞ্চে থাকা বেশ কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

ওই সময় নদীর ঘাট থেকে বেশ কিছু নৌকা ও ট্রলার গিয়ে ২৫-৩০ জনকে উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পরপর ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেখানে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে সোমবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় ২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন