খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ও তাইন্দং এলাকার শুকনাছড়ি, ইসলামপুর, লাইফুপারা ও পংবাড়ীতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গত রোব ও সোমবার ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের সন্ত্রাসীরা ওই হামলা চালায় বলে স্থনীয় প্রশাসনের অভিযোগ।

অভিযোগে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের হামলায় সেখানে বাঙালিদের জীবন বিপন্ন। তারা সেখানে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা ও চাঁদাবাজি করছে। এলাকা থেকে বাঙালি বিতাড়ণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাইফুকারবারি পাড়া এলাকায় কচুক্ষেতে কর্মরত ২০/২৫ জন বাঙালির ওপর আকস্মিক হামলা করে ১২/১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তারা ওই বাঙালিদের মারধর করে এবং ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে ভীতিকর অবস্থা তৈরি করে। এ ঘটনায় ৪ বাঙালি গুরুতর আহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

তবলছড়ি ফাঁড়ির পুলিশ জানায়, পরদিন অর্থাৎ সোমবার সকাল ৮টার দিকে সন্ত্রাসীরা আবারও গ্রামে ঢুকে বাঙালিদের বেধড়ক পেটায় ও ঘরে থেকে বের করে দেয়। রাত ৯টার দিকে আবার অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রামে ঢুকে বাঙালিদের মারধর করে। এই ঘটনা জানাজানি হলে মুসলিমপাড়া, ইসলামপুর, শুকনাছড়িসহ আশেপাশের গ্রাম থেকে বাঙালিরা তাইন্দং বাজারে একত্রিত হয়। তারা সবাই মিলে ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু যাওয়ার সময় তারা মুসলিমপাড়ার পংবাড়ী এলাকার মফিজ মিয়ার বাগানের তিন শতাধিক সেগুন গাছ কেটে ফেলে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সন্ত্রাসীরা আনু মিয়ার চায়ের দোকানও পুড়িয়ে দেয়।

পুলিশ বলছে, ওই এলাকা এখনও থমথমে। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, রিজিয়ন কমান্ডার ও জোন কমান্ডাররা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় বাঙালিরা বলেন, সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করায় পাহাড়ে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে গেছে। সেখানে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ২৪০টি সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নিয়েছে।



মন্তব্য করুন