গত ৩ এপ্রিল দিনাজপুরে দ্রুতযান এক্সপ্রেস নামে চলন্ত ট্রেনে জন্ম হয় শিশুটির। নবজাতক ও তার মায়ের দেখভাল এবং চিকিৎসায় বিশেষ উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। তাদের পৌঁছে দেওয়া হয় দিনাজপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ির মধ্যে চলাচলকারী মিতালী ট্রেনের নামে কন্যাশিশুটির নাম রাখা হয় 'মিতালী'। এবার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মিতালী, তার মা ও পরিবারের সদস্যদের বিশেষ ট্রেনে (গ্যাঙ্কার ট্রেন) ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে রেলওয়ে। বুধবার দুপুরে তাদের নিয়ে ট্রেনটি দিনাজপুর রেলস্টেশন ছেড়ে যায়। এ সময় রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ, দিনাজপুর রেলস্টেশনের সুপার এবিএম জিয়াউর রহমানসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মিতালীর মা মুক্তি পারভীন বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিপদের সময় আমাদের পাশে থেকেছে। আমরা তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

দিনাজপুর রেলস্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট জিয়াউর রহমান জানান, শিশুটি ও তার পরিবারের পাশে থাকতে পেরে আমরাও আনন্দিত।

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভুমরাদহ হাজীপাড়া গ্রামের মনসুর আলীর স্ত্রী মুক্তি পারভীন দিনাজপুরে সেন্ট ভিনসেন্ট (মিশন হাসপাতালে) হাসপাতালে চিকিৎসা করাতেন। ৮ এপ্রিল ছিল তার সন্তান জন্মের সম্ভাব্য তারিখ। এর আগেই ৩ এপ্রিল সকালে স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে পীরগঞ্জ স্টেশন থেকে দ্রুতযান এপপ্রেসে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন মনসুর। দিনাজপুরের মঙ্গলপুর রেলস্টেশন পার হওয়ার পর চলন্ত ট্রেনে নিরাপদে সন্তান জন্ম দেন তার স্ত্রী। পরে মা ও নবজাতককে নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে বিনা ভাড়ায় দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে পৌঁছে দেয় রেলওয়ে।

এদিকে শিশুটি বাড়ি ফেরার সময় হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নতুন কাপড় উপহার দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন