'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি এটি। তবে বাস্তবের শানু বেগম নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে এখন ঘুরছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দ্বারে দ্বারে।

কারণ ভোটার তালিকায় দুই বছর আগে তাকে মৃত দেখানো হয়। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে দুস্থ এই বৃদ্ধার বিধবা ভাতা। আর এতে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।

শানু বেগম বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের মৃত মন্নান ফরাজির স্ত্রী। ২২ বছর আগে স্বামী হারান তিনি। দুই ছেলেই বেকার। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। অভাব-অনটনের সংসারে বিধবা ভাতা ছিল তার সম্বল। 

তিনি জানান, চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে ধর্ণা দিয়ে কয়েক বছর আগে বিধবা ভাতার তালিকায় নাম ওঠান। এক বছর আগে ভাতা বন্ধ হয়ে গেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় গিয়ে জানতে পারেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় তথ্য সংগ্রহকারী মাঠ কর্মকর্তা ভুলে তাকে মৃত দেখানোয় ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। এর পর থেকে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পরামর্শে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহকারী চরকমিশনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিজাম উদ্দীন দাবি করেন, হালনাগাদ কার্যক্রমের আগেই শানু বেগম ভোটার তালিকায় মৃত ছিলেন। হালনাগাদের সময় সেটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এর বেশি আর কিছু তার মনে নেই।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শওকত আলী জানান, শানু বেগম লিখিতভাবে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : ভোটার তালিকায় মৃত বৃদ্ধার ধর্ণা বরিশাল

মন্তব্য করুন