ফরিদপুরের সালথায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

রোববার সকালে জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসলাম মোল্লা।

আসলাম মোল্লা বলেন, তদন্তে ক্ষয়ক্ষতির যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তাতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আসলাম মোল্লাকে প্রধান করে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, সালথার সহিংসতার ঘটনায় দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রোববার একটি কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম মোল্লা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, এছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলীকে প্রধান করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে আরো দুই দিন সময় লাগবে।

এদিকে সহিংসতার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৬১। এর মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা বলেন, সালথার ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরান মোল্লা (৩৫) নামের একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ছাড়া দু'জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাদের পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জামাল পাশা বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে ৫৮ জনকে। এর মধ্যে ৪৮ জনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সালথা থানায় মোট পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। সালথা থানার এসআই মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর, ইউএনওর গাড়িচালক মো. হাশমত আলী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস ও উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক মো. সাগর সিকদার বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। মামলায় ২৬১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে অভিন্ন ৩ থেকে ৪ হাজার জনকে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় করোনা মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে দুই আনসার সদস্য ও ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি ফুকরা বাজারে যান। সেখানে তিনি যাওয়ার পর মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় তিনি ওই স্থান থেকে ফিরে আসেন এবং সেখানে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পাঠান। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত জনতা এসআই মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালান। এতে তার মাথা ফেটে যায়। পরে স্থানীয় জনতা পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত ও বাহিরদিয়া মাদরাসার মাওলানা আকরাম হোসেন এবং জনৈক আরেক মাওলানার গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে দেয়। গুজবে কান দিয়ে হাজারো মানুষ এসে থানা ঘেরাও করে। সেই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সালথা থানা পুলিশের পাশাপাশি ফরিদপুর, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও নগরকান্দা পুলিশ এবং র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট সদস্যসহ আহত হন ২০ জন। আহতদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন (২৫) ও মিরান মোল্লা (৩৫) নামের দুই যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মন্তব্য করুন