নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটি কেন্দ্রীয় আমির জুনায়েদ বাবুনগরী।

রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জুনায়েদ বাবুনগরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, মামুনুল হকের বিষয়টি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত এবং এই বিষয়ে হেফাজতের বৈঠকে কোনও আলোচনাই হয়নি।

হেফাজত আমির বলেন, ‘হাটহাজারী, পটিয়া, বি.বাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতি রাত্রে পুলিশ ও র‌্যাব নিরীহ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে হয়রানি করছে। অনেককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠাচ্ছে। এভাবে হয়রানি বন্ধ করা না হলে ও নীরিহ মানুষদের ধরে  কারাগারে পাঠালে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার করোনার নামে লক ডাউন দিয়ে মাদ্রাসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। লকডাউন দিয়ে মাদ্রাসা বন্ধ করা যাবে না। নামাজ, জুমা ইতেকাফ চলবে। মাদ্রাসা, হেফজখানা ও নুরানী মাদ্রাসায় হাদিস কোরআন পাঠ করা হয়। যেখানে কোরআন-হাদিস পাঠ করা হয় সেখানে করোনা আসবে না।’

এখন পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসার কোনও ছাত্র ও শিক্ষক করোনা আক্রান্ত হয়নি বলে দাবি করেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

তিনি বলেন, প্রশাসন মাদ্রাসায় কতছাত্র লেখাপড়া করে, কমিটিতে কে কে আছে, মাদ্রাসার আয়ের উৎস কী- এসব জিজ্ঞাসা করে হয়রানি করছে। আমরা সরকারকে জানাতে চাই, কওমী মাদ্রাসা জনগণের টাকা দিয়ে চলে। কওমী মাদ্রাসা জনগণের মাদ্রাসা। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা কওমী মাদ্রাসা চালানোর জন্য কখনো সরকারি কোনও অর্থ গ্রহণ করবো না।

হেফাজতের এই নেতা বলেন, আমাদের ঘোষণা হলো, কওমী মাদ্রাসা থাকতে হবে। কওমী মাদ্রাসা না থাকলে বাংলাদেশ স্পেন হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘হেফাজতের আন্দোলন, সরকার পতনের আন্দোলন নয়। হেফাজতের আন্দোলন ইমান ও আকিদা রক্ষার আন্দোলন। সরকার ১০০ বছর নয়, প্রয়োজনে ২০০ বছর থাকুক- তাতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। তবে ইসলামকে মাইনাস করে এই দেশ চলতে পারবে না।’

হেফাজতের নামে মিথ্যা মামলা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার নামেও ১৭টি মামলা আছে। তিনটাতে আমি জামিনে আছি। যাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের নিঃশর্ত  মুক্তি দাবি করেন তিনি। বৈঠক শেষে আগামী ২৯ মে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন ঘোষণা করা হয়।

দুপুর ১২টা থেকে চলা দীর্ঘ ৩ ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল, যুগ্ন-মহাসচিব জোনায়েদ আল-হাবিব, মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনীর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেন রাজী,  খোরশেদ আলম কাসেমী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি, কন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মুনির কাসেমী প্রমুখ। 


মন্তব্য করুন