যশোরে করোনা সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। কিন্তু জেলায় আইসিইউ ইউনিট না থাকায় গুরুতর রোগীদেরকে পাঠাতে হচ্ছে খুলনা, ঢাকা কিংবা অন্য কোনো জেলায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব রোগীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এখনও তাদেরকে বড় ধরনের কোনো সঙ্কটের মুখে পড়তে হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় করোনা আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৫৪৮ জন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে যশোরে করোনা সংক্রমণের হার ছিল ১৪ শতাংশ। বর্তমানে এই হার ২২ হতে ২৫ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করছে। মাঝে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল ৪৫ শতাংশে। করোনায় এ জেলায় এ পর্যন্ত ৬৬ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ঢেউয়ে মৃতের সংখ্যা ৬ জন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, এ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৬ জন ভর্তি রয়েছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত ইউনিট তাদেরকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও কোভিড নমুনা পরীক্ষণ দলের সদস্য অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, পরীক্ষায় যশোর অঞ্চলে যে হারে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিকে ভয়াবহের দিকে যাচ্ছে বলে ধরে নিতে হবে। এই হারে করোনার বিস্তার হতে থাকলে গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দ্রুত কোলাপস করতে পারে। রোগী হ্যান্ডলিং করার ক্যাপাসিটি বাড়ানোসহ সাধারণ মানুষকে সচেতন করা ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে।

এ দিকে করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে যশোরে আইসিইউ চালুর দাবি উঠলেও গত একবছরে সেটা স্থাপন সম্ভব হয়নি। যশোর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টসহ বিশেষ কিছু যন্ত্রাংশের বরাদ্দ না মেলায় আইসিইউ চালু করা যাচ্ছে না। তবে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আইসিইউ চালু জরুরি বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

কোভিড ঊনিশের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছর জুন মাসে দেশের ৩০টি জেলার হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের উদ্যোগে নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ছিল যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালও। ওই বছরের ৩০ জুন আইসিইউ’র সরঞ্জামের প্রথম চালানও এসে পৌঁছায় যশোরে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবকাঠামো উন্নয়ন করে আইসিইউ ইউনিটে রূপান্তরিত করা হয়।

কিন্তু যশোর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ জানান, আইসিইউ ইউনিটটি ইনস্টল করতে গিয়ে দেখা যায় অনেক সরঞ্জাম বাকী রয়েছে। পরে ইনস্টল করা হয়নি। ইতোমধ্যে এসব সরঞ্জামের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সরঞ্জামগুলো পেলে আইসিইউ ইউনিট চালু করতে পারবো।