নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে মাওলানা মামুনুল হক ইস্যুতে হামলা, ভাংচুর ও মহাসড়কে নাশকতা সৃষ্টির মামলার প্রধান আসামি খেলাফত মসলিশের সভাপতি ও হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেনসহ ৪ নেতাকে ঢাকার জুরাইন থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। মাওলানা ইকবাল নাশকতার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা একটি মামলার প্রধান আসামি। 

রোববার বিকেলে ঢাকার জুরাইন এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব ১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- সোনারগাঁ উপজেলা হেফাজতের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন খান (৫২), সাধারণ সম্পাদক শাজাহান শিবলী (৪৩), সহ-সভাপতি হাফেজ মোয়াজ্জেম হোসেন (৫২)। সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ৭টি মামলার মধ্যে গ্রেপ্তাররা ৬টি মামলার আসামি বলে জানিয়েছেন পুলিশ। 

এদিকে গ্রেপ্তারদের পুলিশ দুই মামলায় তাদের ১৪ দিন করে রিমান্ড চেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মেদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে পাঠালে বিচারক প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে এক নারীসহ অবরুদ্ধ করার ঘটনায় হেফাজত নেতাকর্মীরা সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ দুই নেতার বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রয়্যাল রিসোর্টে ভাংচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা পৃথক দু'টি মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের অভিযোগ তিনি একটি মামলা, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনিকে হত্যাচেষ্টায় তার বাবা শাহ জামাল তোতা বাদী হয়ে একটি মামলা, যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর শাশুড়ি বাদী হয়ে একটি মামলা ও হেফাজত ইসলামের কর্মীদের হামলায় আহত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। সব মিলিয়ে সোনারগাঁয়ে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়। 

সোনারগাঁ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় প্রধান আসামি ইকবাল হোসেনসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭টি মামলায় ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।