ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৃহবধূর লাশ ফেলে পালিয়ে গেছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সোমবার বিকেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।  

ওই গৃহবধূর নাম শারমিন(১৯)। তিনি উপজেলার বোয়ালমারী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিবপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি রুবেল শেখের স্ত্রী। রুবেল শেখ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আইয়ুব আলীর ছেলে। লাশের পাশে শ্বশুরবাড়ির কোনো লোকজনকে না পেয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ইউডি মামলা করেছেন।

থানা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের শান্তু মিয়ার মেয়ে শারমিনের সাড়ে চার মাস আগে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিবপুর গ্রামের রুবেল শেখের সঙ্গে বিয়ে হয়। সোমবার দুপুর ১টার দিকে শারমিনকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশের পাশে শ্বশুরবাড়ির কোনো লোকজনকে না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবার বাড়ির লোকজন অন্য লোক মারফত খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসে। পুলিশ বিকেল সাড়ে ৫টায় বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শারমিনের মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। 

নিহতের শ্বশুর বোয়ালমারী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আইউব আলী জানান, পারিবারিক কোন কলহ ছিল না। তবে সোমবার সকালে কিস্তির টাকা নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। 

নিহত শারমিনের মেঝভাই হাসিব শেখ বলেন, বোনের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের তার শ্বশুরবাড়ির কেউ জানায়নি। অন্য লোকের মাধ্যমে আমরা বেলা তিনটার দিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখি আমার বোন মারা গেছে। আমার বোনকে গলা টিপে হত্যা করে হাসপাতালে রেখে তারা পালিয়ে গেছে। 

 বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম জানান, ‘শারমিনকে নিয়ে আসার আগেই সে মারা গেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।' 

লাশ উদ্ধারকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক সরোয়ার হোসেন জানান, লাশ উদ্ধার করার সময় হাসপাতালে শারমিনের শশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হাসপাতালের ডাক্তার বাদী হয়ে ইউডি মামলা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে গৃহবধুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন