হবিগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন যুবককের বিরুদ্ধে। রোববার রাতে লস্করপুর ইউনিয়ন অফিসের অদূরে এ ঘটনায় দুই যুবককে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সোমবার সদর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তাদের আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তারা।

অভিযুক্তরা হলেন, জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ঝিকুয়া গ্রামের রেনু মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া ও কাছম আলীর ছেলে সায়মন আহমেদ শামীম। ভুক্তভোগী নারী জেলার বানিয়াচং উপজেলার গুনই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিলেটে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। লকডাউনে ছুটি থাকায় বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।

হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মাসুক আলী জানান, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিলেট থেকে নতুন ব্রীজ এলাকায় এসে নামেন ২৫ বছরের এক নারী। তিনি নিজ বাড়ি যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় অটোচালক জনি মিয়া, সুজন ও শামীম ওই নারীকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলেন। পরে দ্রুত অটো চালিয়ে ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কে ঢুকে লস্করপুর ইউনিয়ন অফিসের অদূরে নির্জন বাগানে নিয়ে যান। সেখানে অটোরিকশায় ওই নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একে একে তিনজন ধর্ষণ করেন। এরপর তারা ওই নারীকে নিয়ে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পথে চরহামুয়া পয়েন্টে এলে চিৎকার শুরু করেন ভুক্তভোগী নারী। পরে স্থানীয়রা ঘেরাও করে অটোসহ সুজন ও শামীমকে আটক করে। তবে অটোচালক জনি মিয়া পালিয়ে যান। এরপর তাদের মারধর করে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ওসি বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার পর সোমবার সন্ধ্যায় সুজন ও শামীমকে হবিগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।