লকডাউনের মধ্যে ফেনীতে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। ফেনী মডেল থানার এসআই যশোমন্ত মজুমদার ও দুই কনস্টেবলকে মঙ্গলবার প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। সোমবার সকালে শহরের ট্রাঙ্ক রোডে মডেল হাইস্কুলের সামনে ধস্তাধস্তির ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ও ভাইরাল হয়। শহীদ নামে ওই যুবক রিকশায় শহরের উকিলপাড়া থেকে ট্রাঙ্ক রোডের দিকে যাচ্ছিলেন।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ৩ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবক ফেনী মডেল স্কুলের সামনে পৌঁছালে দায়িত্বরত এসআই যশোমন্ত মজুমদারসহ পুলিশ সদস্যরা রিকশার গতিরোধ করেন। এ সময় কেন তার গতিরোধ করা হলো জানতে চেয়ে ওই যুবক চিৎকার করে বলতে থাকেন, 'অন্য রিকশা ছেড়ে দিছস। আমার রিকশা কেন ধরা হয়েছে?' পুলিশ সদস্যরা যুবককে রিকশা থেকে জোর করে নামালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় পুলিশ তাকে 'পাগল' আখ্যা দিলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হন। পুলিশ সদস্যরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তাকে পিঠমোড়া করে সড়কে চেপে ধরা হলে আশপাশে থাকা লোকজন উচ্চস্বরে হইচই করতে থাকেন। হাতকড়া পরানোর পর ওই যুবক পুলিশকে মারতে থাকেন। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়।

এ ঘটনা ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবীর নজরে এলে তিনি মঙ্গলবার সকালে এসআই যশোমন্ত মজুমদারসহ তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেন।

ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শহীদ নামে ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। পরে তাকে মুচলেকা নিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।