সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার অসহায় বৃদ্ধ শাহাজ আলীর মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই ছাপড়া ঘরটির চাল ঝড়ে উড়ে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটছে তার। সহায় সম্বল ও স্বজনহীন শাহাজ আলীর ঘরটি নতুন করে তৈরি করার কোনো সামর্থ্যও নেই।

শাহাজ আলী উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। বয়স ৯০ পেরিয়ে গেছে। বয়সকালে দিনমজুরি করতেন তিনি। বাড়ির ১ শতক ভিটে ছাড়া আর কোনো জমি নেই। নিঃসন্তান শাহাজের বৃদ্ধা স্ত্রী বছর খানেক আগে মারা গেছেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর আরো নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন তিনি। অনেকদিন ধরেই কাজ করে খাবার মতো শারীরিক অবস্থা নেই তার। তার এক ভাতিজি তাকে দু’বেলা খেতে দেয়। ভাতিজির পরিবারের অবস্থাও ভালো না। একটা টিনের ছাপড়া পাটকাটির বেড়া। এই ঘরটি তাদের দম্পত্তির মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল। বছর খানেক ধরে একাই এই ঘরে কোনোরকম থাকেন শাহাজ আলী। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল রাতে উল্লাপাড়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ে শাহাজ আলীর শেষ সম্বল ছাপড়া ঘরের টিন উড়ে গেছে। ভেঙে যায় ছাপড়ার পিছনের পাটকাটির বেড়াও।

শনিবার বেতবাড়ী গ্রামে শাহাজের করুণ অবস্থা দেখতে তার বাড়িতে গেলে বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া শাহাজ কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, যে ক’দিন আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন, ছাপড়ার ঘরেই রাতে ঘুমাতে হবে। কিন্তু ছাপড়ার চালও এখন নেই। বেড়াগুলো ভেঙে গেছে। ঝড় বৃষ্টির দিন। কীভাবে তিনি এই ঘর মেরামত করবেন তাও জানেন না। চরম অনশ্চিয়তার মধ্যে দু'দিন ধরে কাটছে তার।

বিষয় : সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া বৃদ্ধ শাহাজ আলী

মন্তব্য করুন