রংপুরের মিঠাপুকুরে স্কুলছাত্রী মোসলেমা খাতুনের (১৬) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে তার প্রেমিক নাহিদ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে নাহিদ হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

মোসলেমা উপজেলার ভাংনি ইউনিয়নের দলশিংপুর বউরাকোট গ্রামের মোতালেব মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় হুলাশু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার সে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। 

গত রোববার রাতে বাড়ির পাশে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ জানান, মোসলেমা তার চাচাতো বোন। এক বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের কথা বলে প্রেমিকার সঙ্গে নাহিদ একাধিকবার শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ওই ছাত্রী নাহিদকে জানায় সে অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু নাহিদ তা অস্বীকার করে। এতে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। 

গত ২২ এপ্রিল মোসলেমা নাহিদকে ফোন করে বাড়িতে আসতে বলে। তারা ভুট্টা ক্ষেতে গিয়ে দেখা করে। মোসলেমা তাকে বিয়ে করতে বলে। এর এক পর্যায়ে নাহিদ রেগে গিয়ে ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মোসলেমাকে হত্যা করে। 

মোসলেমাকে না পেয়ে তার পরিবারের লোকজন মিঠাপুকুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। এ ঘটনার তিনদিন পর শনিবার সন্ধ্যায় মোসলেমার বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকে। দুর্গন্ধের সূত্র ধরে ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে মোসলেমার অর্ধগলিত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার রাতে মোসলেমার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তার বাবা প্রেমিক নাহিদ হোসেনকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডি সার্কেল) কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, মোসলেমাকে হত্যার পর নাহিদ বাড়িতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন। হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোসলেমাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে। নাহিদকে আদালতে তোলা হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সে।  

বিষয় : রংপুর মিঠাপুকুর হত্যা

মন্তব্য করুন