একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর ছোড়া মর্টার শেলের আঘাত লেগেছিল নূরজাহান বেগমের মাথায়। মর্টার শেলের টুকরো মাথায় নিয়েই ৫০ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। ফলে লোপ পায় তার স্মৃতি ও বাকশক্তি। এ নিয়ে গত রোববার সমকালে 'মস্তিস্কে মর্টাল শেলের স্প্লিন্টার নিয়ে ৫০ বছর' শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ হয়। এরপর বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে। বর্তমানে হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জাহেদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।

সোমবার বিকেলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জাহেদ হোসেন সমকালকে বলেন, নূরজাহান বেগমকে সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। বিষয়টি জটিল হওয়ায় আমরা একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করব। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

সমকালে খবর প্রকাশের পর মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের নির্দেশে ওই দিনই বিকেলে নূরজাহান বেগমের সার্বিক খোঁজখবর নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আক্তার। তারা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাঈদ এনামের সঙ্গে পরামর্শ করে নূরজাহান বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

নূরজাহানের মূল বাড়ি ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তরী ইউনিয়নের আমোদাবাদ এলাকায়। বর্তমানে তাদের পরিবার কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের লংলা খাসের নতুন বস্তি এলাকায় বাস করে।

নূরজাহান বেগমের বড় ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মোবারক হোসেন বলেন, সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া চাই যেন তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ডা. সাঈদ এনাম বলেন, শেলের টুকরো নূরজাহান বেগমের মস্তিস্কের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গলিয়ে ফেলেছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে 'পরেনসেফালি'। এ অবস্থায় দীর্ঘকাল বেঁচে থাকাটা বিরল ঘটনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।