ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাক্ষরপত্র ছিনতাই

বগুড়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারলেন না ৮ জন

১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জোগাড় হয়নি

বগুড়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারলেন না ৮ জন

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া ব্যুরো ও নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০২:১১ | আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০২:১১

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংবলিত স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে না পেরে বগুড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি আটজন। অনেক চেষ্টা চালিয়েও তারা ইসির এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরোজুর রহমান ওলিওর সংগ্রহ করা ভোটারের স্বাক্ষর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার শাহপুর খালকাটায় এ ঘটনা ঘটে।

ইসির তপশিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। বগুড়া নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য ৩৭ জন মনোনয়নপত্র নিলেও তাদের মধ্যে আটজন নির্ধারিত সময়ে সেই তা জমা দেননি। তারা হলেন– বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের তবিবুর রহমান ও আব্দুর রহমান, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বেলাল হোসেন, বগুড়া-৬ (সদর) আসনের স্বপন প্রামাণিক, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের আবুল বাশার, জিন্নাতুল ইসলাম ও আব্দুল হান্নান এবং বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের আল আলিবুল জান্নাত। 
ইসির নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়ায়মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তারা। তবে দু’জন দাবি করেছেন, ইচ্ছা করেই তারা মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে আগ্রহী বগুড়া-১ আসনের তবিবুর রহমান বলেন, ‘চেষ্টা করেও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন জোগাড় করতে পারিনি। তাই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলোনা।’ একই কথা বলেন ওই আসনের আব্দুর রহমান। 

তিনি বলেন, ‘আমার সাড়ে ৪ হাজার স্বাক্ষর লাগত; কিন্তু ২ হাজার ৩৪ জনের স্বাক্ষর জোগাড় করতে পেরেছিলাম। এভাবে জমা দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে, তাই জমা দিইনি।’ 

বগুড়া-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, ‘স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তবু ৫ হাজার ১২৩ জনের স্বাক্ষর নিতে পারিনি। তাই ফরম জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি স্বপন প্রমাণিক। তাঁর সাড়ে ৪ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল।তিনি তা সংগ্রহ করতে পারেননি। স্বপন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এই নিয়ম বাতিল করা উচিত।’

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র তুলে জমা দেননি শাজাহানপুর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল বাশার। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করায় চার বছর আগে তাঁকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বেলাল হোসেনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র তুলে তা জমা দেন। 
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহামুদ হাসান বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র দিয়েছেন, তাদের কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হবে।’

ভোটারের স্বাক্ষর ছিনতাই

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরোজুর রহমান ওলিওর সংগ্রহ করা ভোটারের স্বাক্ষর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। 

সদ্য পদত্যাগী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁর দুই সমর্থক মো. মুহিবুর রহমান ফরিদ ও আল আমীন শাহপুর এলাকার আড়াইশ ভোটারের স্বাক্ষরনিয়ে তাঁর বাড়িতে আসার পথে সাত-আট যুবক মোটরসাইকেলে এসে সেগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, বর্তমান এমপিউবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আবু মুসা আনসারীর নির্দেশে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, বুধবার রাতে হুমকি পেয়ে তাঁর অনেক সমর্থক যারা স্বাক্ষর দিয়েছেন, তারা সেগুলো ফেরতচেয়েছেন। 

তবে আবু মুসা আনসারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এসব করতে যাব কেন! আমরা একইএলাকার বাসিন্দা।তিনি (ওলিও) একেক সময় একেক কথা বলেন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসাইন বলেন, ‘শুনেছি সুলতানপুর ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শাহানা বেগমের ছেলে অবুঝসহসাত-আট যুবক১৫০ জন ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকা নিয়ে গেছে। মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি।’ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি,ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন

×