ঢাকা রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪

রওশন এরশাদের রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি!

রওশন এরশাদের রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি!

ছবি: ফাইল

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ 

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১১:৫৯

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রওশন এরশাদের রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি ঘটছে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থক ও নেতাকর্মী। এ নিয়ে হতাশাও বিরাজ করছে তাদের মধ্যে। রওশনের বদলে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরপন্থি মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ও আকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু মো. মুসা সরকার। 

২০১৪ ও ২০১৮ সালের দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রওশনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর তিনিই প্রথম স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু নিজ দলীয় কোন্দলের কারণে এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন নিজ সংসদীয় আসন ময়মনসিংহ-২ থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন কিংবা জমা কিছুই দেননি তিনি। রওশন এরশাদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় সদর আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মোহিত উর রহমান শান্তর বিজয় অনেকটা নিশ্চিত। রওশন নির্বাচনে অংশ নিলে আগের দুটি নির্বাচনের মতো আসনটি ছাড়তে হতো– এমন আশঙ্কা করছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। কিন্তু রওশন এরশাদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রওশনের আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দেওয়ায় গত বুধবার রাতে গুলশানের বাসায় বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে রওশন এরশাদ বলেন, আমি দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব সহযোগিতা না করার কারণে দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এমতাবস্থায় দলের ও নেতাদের অবমূল্যায়ন করার কারণে নির্বাচনে আমার অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়।

রওশন এরশাদ ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ সদর আসন থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিজের পৈতৃক ভিটায় বেশ জনপ্রিয় তিনি। ৮২ বছর বয়সী এই নেত্রী এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না– এ খবর বুধবার রাতেই ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই হতাশা নেমে আসে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে।

জাতীয় পার্টির সহযোগী সংগঠন সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ আমিনী রুমি বলেন, এবার নির্বাচনে অংশ নিলে রওশনই জয়ী হতেন। স্বামীর মতো তিনিও এমপি অবস্থায় জীবনের শেষ সময় কাটাতে পারতেন। কিন্তু ছেলের পাল্লায় পড়ে সেটি আর হলো না। এবার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে রওশন অধ্যায়ের শেষ হতে যাচ্ছে। 

রওশনপন্থি ময়মনসিংহ মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আবদুল আওয়াল সেলিম চরম হতাশা নিয়ে বলেন, আমার ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবন। দল থেকে আমাকে মনোনয়নও কিনতে দেওয়া হয়নি। 

জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন বলেন, দলের চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবের অসহযোগিতার কারণে নির্বাচনে নেত্রী অংশ নিচ্ছেন না। কর্মীরা যেন হতাশ না হয়, যেন উজ্জীবিত থাকে, তা নিয়ে নেত্রী দু-এক দিন পর নির্দেশনা দেবেন। রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই। সূর্যাস্তের পরে আবার সূর্যোদয় হয়।

আরও পড়ুন

×