বগুড়ায় অটোরিকশা থামিয়ে 'বাবা হুজুর' নামে পরিচিত একটি মাদ্রাসার পরিচালক মোজাফফর হোসেনকে (৫৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার বীরগ্রাম এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। 

নিহত মোজাফফর ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানাতে পারেনি।

মোজাফফর নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার সুকাশ গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে। তিনি বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মধ্যপাড়া আল জামিয়া আল আরাবিয়া দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। তার দুই স্ত্রী ও দু'পক্ষে দুই মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্ত্রী সিংড়ার সুকাশ গ্রামেই থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মোজাফফর হোসেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বগুড়া যাচ্ছিলেন। ওই অটোরিকশায় তিনি ছাড়াও এক নারীসহ আরও চার যাত্রী ছিলেন। অটোরিকাশাটি সকাল পৌনে ১০টার দিকে নাটোর-বগুড়া সড়কের বীরগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী দু'জন তাদের গতিরোধ করে। এর পরেই তাদের একজন মোজাফফরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে এলাকাবাসী তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, করোনাকালে মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও মোজাফফর হোসেন মাদ্রাসার একটি কক্ষে বসে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ লেখার কাজ করতেন। তার কাছে মূলত প্রেম-বিয়ে, স্বামী-স্ত্রীর অমিল, মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ আসতেন। স্থানীয় বাসিন্দা এক তরুণ বলেন, 'ছিনতাই নয়, তাকে অন্য কারণে মারা হয়েছে।' তবে কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কথা না বাড়িয়ে চলে যান।

শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, হত্যার কারণ সম্পর্কে আমরা এখনও নিশ্চিত নই। তদন্ত চলছে। আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি। অটোরিকশার অন্য যাত্রী ও চালকের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য করুন