জান্নাত, জোনাকী, শারমিনদের কারও বাবা নেই, কারও নেই মা। কুমিল্লা নগরীর সংরাইশ সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) তাদের মতো একশ শিশু রয়েছে। এসব অসহায় শিশুকে নিয়ে ঈদের আনন্দে শামিল হতে এগিয়ে এসেছে দু'টি বেসরকারি সংস্থা। নগরীর অভিজাত শপিংমলে নিয়ে এসে তাদের পছন্দের পোশাক কিনে দেওয়া হয়। নতুন জামা পেয়ে তারাও আনন্দে উদ্বেলিত।

শিশু পরিবার সূত্রে জানা যায়, এখানে বিভিন্ন বয়সের একশ নিবাসী (বালিকা) অবস্থান করছে। বয়স অনুযায়ী তারা শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত পড়াশোনা করছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ শিশুদের মার্কেটে নিয়ে তাদের জন্য ঈদের নতুন পোশাক কেনার আনন্দদানের ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে কুমিল্লার মেগা ফ্যাশন হাউস অ্যান্ড স্টুডিও ও সামাজিক সংগঠন কাকলী ফাউন্ডেশন। গত সোম ও মঙ্গলবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের জন্য পছন্দের পোশাক কিনে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান, শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক শরফুন্নাহার মনি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাইফ উদ্দিন রনি, মেগা ফ্যাশন হাউস অ্যান্ড স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী আবদুল বারিক খান রানা, কাকলী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক কাউন্সিলর কোহিনুর আক্তার কাকলী, ডিজাইনার মশিউর মাসুদ, ব্যাংকার মনজুর-বিন আলম রানা, কাকলী ফাউন্ডেশনের ভলান্টিয়ার ইউনিটের সভাপতি কাজী মো. ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক আসিফ সানি, সদস্য নাসির উদ্দিনসহ অনেকে।

পছন্দমতো পোশাক কিনতে পেরে আনন্দিত সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসীরা। মঙ্গলবা দুপুরে এ বিষয়ে জান্নাত, জোনাকী, শারমিন, তাইফা, মরিয়ম, নুরজাহান, লিমা, খুশি, সাবরিন, মনিরা ও তাহমিনা জানায়, এ সরকারি নিবাসই তাদের ঘরবাড়ি। ঈদ এলেই অপেক্ষায় থাকত- কে কিনে দেবে একটি নতুন জামা।

শিশু পরিবারের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাইফ উদ্দিন রনি জানান, এসব অসহায় শিশুর পছন্দের পোশাকের জন্য চার লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তাদের খাবার, শিক্ষা, পোশাক, বই কিনে দেওয়াসহ যে কোনো সহায়তায় সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে তারাও এক সময় সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক শরফুন্নাহার মনি বলেন, অসহায় নিবাসীদের ঈদ আনন্দে যে দুটি সংস্থা অর্থ ব্যয় করে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আশা করব, এ শিশু পরিবারের নিবাসীদের যে কোনো সহায়তায় অন্যরাও এগিয়ে আসবেন।

মন্তব্য করুন