মাদারীপুরে গ্রামের অনেক যুবককে বিদেশে মোটা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে আসছে একটি দালাল চক্র। এসব চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে দরিদ্র পরিবারগুলো। অনেককে জীবন দিতে হচ্ছে অথৈ সমুদ্রে কিংবা অপহরণকারীদের হাতে।

গত সোমবার থেকে লিবিয়ায় অপহরণকারীদের হাতে আটক রয়েছেন মাদারীপুরের ২৪ যুবক। তাদের নির্যাতন করে সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা দাবি করছে অপহরণকারীরা।

অপহৃত ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাছার গ্রামের শাহিনের ছেলে জনি মিয়া, হাবু হাওলাদারের ছেলে হিফজু হাওলাদার, সরদার কান্দী গ্রামের আলা খার ছেলে মো. আশাদুল খান ও রিপন আকনের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম। বাকি ১৯ জনের বাড়ি মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায়। টাকা না পাঠালে তাদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে অপহরণকারীরা। এরপর থেকে আতঙ্কে রয়েছে ওই যুবকদের স্বজনরা।

স্থানীয়রা জানায়, চাছার গ্রামের ছাবু খানের ছেলে জাহিদ খান ইউছুফ এলাকার চিহ্নিত দালাল। ৪ থেকে ৫ বছর ধরে তিনি মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার মাধ্যমে প্রায় ৩০০ যুবক লিবিয়ায় গেছেন। পরে অনেকেই সাগর পথে ইতালি পাড়ি জমিয়েছেন। এসব লোকজন পাঠাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে। জাহিদ খানের কাজ হলো মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের সংগ্রহ করা। প্রত্যেকের সঙ্গে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয় ঢাকা টু লিবিয়া। সেখান থেকে ইতালি। জাহিদ খানের মাধ্যমে মাদারীপুরের যে সব যুবক লিবিয়া গেছেন তাদের অনেকেই এখনও ইতালি যেতে পারেনি। তারা লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে অবস্থান করছেন। সর্বশেষ তার মাধ্যমে যাওয়া ২৪ জন যুবক লিবিয়ায় অপহরণকারীদের হাতে আটক রয়েছেন। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় জাহিদকে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

অপহৃত হিফজু হাওলাদারের বাবা হাবু হাওলাদার বলেন, 'আমি আমার ছেলেকে জাহিদ খান ইউছুফের মাধ্যমে গত দুই মাস আগে লিবিয়া পাঠাই। তার সঙ্গে আমার ৮ লাখ টাকা চুক্তি হয়। ২ লাখ টাকা আমি ইতিমধ্যে তার কাছে দিয়েছি। বাকি টাকা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত দুই দিন ধরে আমার ছেলেসহ মোট ২৪ জন লিবিয়ার অপহরণকারীদের হাতে আটকা রয়েছে। আমি আমার ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় চাই।'

এ ব্যাপারে জাহিদ খান ইউসুফ বলেন, 'আমি কোনো লোক পাঠাইনি। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।'

ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমান মৃধা বলেন, আমি জাহিদকে চিনি। তবে সে যে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত তা জানা ছিল না। আমার ইউনিয়নের কিছু লোকসহ মাদারীপুরের ২৪ জন লিবিয়ায় অপহৃত হওয়ার বিষয়ে এখনও কেউ কিছু জানায়নি।'

মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, 'আমরা বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত জানতে তদন্ত কর্মকর্তাকে চাছার গ্রামে পাঠানো হয়েছে।'

বিষয় : বাংলাদেশি অপহরণ লিবিয়া মুক্তিপন দাবি মাদারীপুর

মন্তব্য করুন