ফোন করে বলা হয়, ভুল করে মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেছে। বলা হয় টাকার পরিমাণও। অনুরোধ করা হয় সেই টাকা ফেরত পাঠানোর। এভাবে প্রতারণার ফাঁদ বিছিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি চক্র। 

ময়মনসিংহ নগরীর গৃহিনী ফারজানা মোস্তারির কাছ থেকে এভাবে মুঠোফোনে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয় ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এ ঘটনায় ফারজানার স্বামী মঞ্জুর আহমদ মিলন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ৬ এপ্রিল একটি মামলা করেন। ওই মামলায় প্রযুক্তির সহায়তায় মাগুরার শ্রীপুর থানার চরমহেষপুর মধ্যপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয় মো. মাসুদ মোল্লা (৩৬) নামের চক্রের এক সদস্যকে। তাকে ধরতে গিয়ে পুলিশ পেয়েছে চক্রটির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও বেশকিছু তথ্য।

মাসুদ মধ্যপাড়া গ্রামের প্রয়াত আমির মোল্লার ছেলে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। পরে তাকে বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রওশন জাহানের আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।

মাসুদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মাগুরার ওই গ্রামটি ও আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষের পেশা হয়ে উঠেছে প্রতারণা। একেক গ্রুপে রয়েছে অন্তত ১২ জন করে। ৩০টি গ্রুপ রয়েছে এলাকায়। চক্রটির নেটওয়ার্ক রয়েছেন দেশের প্রায় সব জেলায়। বিকাশ এজেন্টগুলোকে তারা টার্গেট করে অপেক্ষায় থাকেন। কেউ কাউকে টাকা পাঠনোর পর সঙ্গে সঙ্গে নম্বর দেওয়া হয় চক্রের সদস্যদের কাছে। টাকা যাওয়া ব্যক্তির কাছে ফোন করে বলা হয়, 'ভাই আপনার বিকাশ নম্বরে ভুল করে আমার টাকা গেছে।' টাকার পরিমাণও বলা হয়। একটি নম্বর দিয়ে তাতে টাকা পাঠিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। দিনভর চেষ্টার পর কেউ না কেউ তাদের প্রতারণার ফাঁদে পা দেন। তেমনিভাবে আটকা পড়েছিলেন ময়মনসিংহের ফারজানা। তার বিকাশ নম্বরে ২৫ হাজার টাকা পাঠান এক স্বজন। কিন্তু চক্রের এক সদস্য তাকে ফোন করে জানায়, ভুল করে টাকা গেছে। এভাবে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৩৮ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

 পুলিশ আরও জানায়, চক্রগুলোর হোতারা এলাকায় থেকেই টাকা তুলে নেয়। বিভিন্ন জেলায় নিজেদের লোক রেখে প্রতারণা করে তারা। প্রতারণার টাকায় তাদের বাড়িঘরের চিত্র পাল্টে গেছে। এলাকার প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় প্রতারণার কাজ চালিয়ে যেতে পারছে চক্রটি। 

ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নেওয়া গ্রামটির অনেক মানুষের পেশা। প্রতিটা গ্রুপে অন্তত ১২ জন করে সদস্য কাজ করে। চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।