ফরিদপুরের সালথায় বিয়ে কথা বলে একাধিবার ধর্ষণে এক তরুণী (২০) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ফেলা মাতুব্বরকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নামে এ মামলা দায়ের করেছেন ধর্ষণের শিকার তরুণী। এ ঘটনায় মনোয়ার হোসেন নান্নু নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশিকুজ্জামান বলেন, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর গত ৫-৬ বছর ধরে ওই তরুণী উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়া গ্রামে তার বোনের বাড়িতে থাকেন। সেখানে প্রতিবেশী ফেলা মাতুব্বরের সঙ্গে তার প্রেম সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ে কথা বলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে ফেলা। এতে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ফেলা কয়েক মাস আগে বিদেশে চলে যায়। বর্তমানে ওই তরুণী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মাতুব্বররা দুই লাখ টাকায় মীমাংসা করে দেয়। এটা নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার পর আমরা ঘটনা তদন্তে মাঠে নামি ও ধর্ষণের শিকার তরুণীকে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে ফেলা মাতুব্বরকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে ওই তরুণী। মামলায় স্থানীয় মাতুব্বরদেরও আসামি করা হয়েছে।

অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণী বলেন, আমি আমার সন্তানের স্বীকৃতি চাই। আর যারা আমার এই ঘটনা জোর করে মীমাংসা করে দিয়েছিল, তাদেরও বিচার চাই।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যমে জানার পর ওই তরুণীকে উদ্ধার করে মামলা নিয়েছি। ঘটনাটি মীমাংস করে থামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীদের মধ্যে মনোয়ার হোসেন নান্নু নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


বিষয় : ধর্ষণ সালথা

মন্তব্য করুন