নোয়াখালীর বিছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় জোবায়ের হোসেন (৪৫) নামের এক ইউপি সদস্য প্রার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আরো ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেরারম্যান নুরুল ইসলামের ছেলে এবং ওই ইউনিয়নের পরিষদের ০২নং ওয়ার্ডের এক সদস্য রয়েছেন। এ নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের।

ওসি জানান, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচ্যাঙ্গা বাজারে দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান প্রার্থী অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক ইউপি সদস্য প্রার্থী নিহত হন। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার দুপুরে ২জন ও রাতে ৫ জনকে আটক করে। এ নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদেন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগে যদি আটক নাম আসে তাহলে তাদেরকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে ইউপি সদস্যপ্রার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামীলীগের চেয়্যারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান এবং বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। হাতিয়াবাসীর আশঙ্কা, যে কোন সময় দু পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ৪০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম ফারুক।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে চরচেঙ্গা বাজারে জেলেদের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিতরণ করা হয়। এসময় নৌকার প্রার্থী মেহেদী হাসানের অনুসারী ও ইউপি সদস্য প্রার্থী জোবায়েরসহ কয়েকজন চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়া ও অনিয়মের প্রতিবাদ করেন। এতে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর লাঠি ও গুলি হামলা চালায়। এ সময় জোবায়েরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু পায়ের রগ কেটে দেয়। এ ঘটনায় আরও চার জন আহত হয়। গুরুতর অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় আহতরা হচ্ছেন ইরাক হোসেন, জীবন, আব্দুর রহিম ও আলাউদ্দিন। এদের মধ্যে ইরাককে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নুরুল ইসলাম নৌকার সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। শুক্রবার সকালে স্থানীয় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণে ওজনে কম ও অনিয়মের প্রতিবাদ করলে নুরুল ইসলাম ও তার লোকজন আমার অনুসারী জোবায়ের, ইরাক, জীবন, আব্দুর রহিমসহ ১০-১২ জন লোকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় জোবায়েরকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে তারা।

এব্যাপারে সোনাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিহত জোবায়ের একজন সন্ত্রাসী ও বিএনপির ক্যাডার ছিলেন। শুক্রবার চাল বিতরণের সময় জেলেদের চাল লুট করতে আসেন তিনি। এসময় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তিনি ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন।  

মন্তব্য করুন