শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে শনিবার বিকেল ৩টায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। 

এরপর প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান এম সোবহান। সেখানে নিয়োগের বিষয়ে 'জেরা' করা হচ্ছে তাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল পৌনে ১১টা থেকে নিয়োগ কার্যক্রমে জড়িত সবাইকে একে একে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। পরে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ ও বিভিন্ন বিভাগের সভাপতিদের কাছ থেকে নিয়োগের বিষয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে কমিটি। বেলা ৩টার দিকে সদ্যসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গে চাকরি পাওয়া ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যরা প্রশাসন ভবনে আসেন। এ সময় এম সোবহান ভেতরে গেলে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অন্যদের।

২০১৭ সালের ৭ মে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। ৬ মে তার শেষ কার্যদিবস ছিল। শেষদিন বিভিন্ন পদে ১৪১ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগ দিয়ে যান তিনি। 

বৃহস্পতিবার সকালে অ্যাডহকে নিয়োগের কথা ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই প্যারিস রোড, প্রশাসন ভবন, শহীদুল্লা কলা ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। 

দুপুর ১২টার দিকে মহানগর ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী শেখ রাসেল স্কুলের মাঠ থেকে প্যারিস রোডে শোডাউন দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে আসেন। এরপর তারা প্রশাসন ভবনের পাশে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে অবস্থান নেন। এ সময় সেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাস্টাররোলের কর্মচারীর মুখোমুখি অবস্থায় চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রথমে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেকশক অফিসার মাসুদের ওপরও হামলা চালান। পরে রাবি ছাত্রলীগ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা হয়। এ সময় রাবি ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে ধাওয়া দিলে মহানগর ছাত্রলীগেরর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মহানগর ছাত্রলীগ পালিয়ে যায়।

মন্তব্য করুন