ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সপ্তম শ্রেণীর এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি মো. সুমন মোল্লাকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত পৌনে ১টায় আলফাডাঙ্গার সীমান্তবর্তী পাশের গোপালগজ্ঞ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ব্যাসপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বেজিডাঙ্গা সেতুর উপর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. সুমন মোল্লা আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাঠিগ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক। তিনি বিবাহিত এবং দুই ছেলের বাবা।

রোববার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সুমন মোল্লাকে গ্রেপ্তারের খবর জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) জামাল পাশা বলেন, গত ৩০ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের একটি গ্রামের জনৈক রফিক মেম্বারের পুকুরে গোসল করতে যায় ওই কিশোরী। গোসল শেষে ফেরার পথে আসামি সুমন মোল্লা পিছনের দিক থেকে এসে মেয়েটিকে মুখে গামছা চেপে ধরে আমির মিয়ার উঁচু ঘাস ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই কিশোরী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই কিশোরীকে ওসিসি (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) স্থনান্তর করা হয়। বর্তমানে ওই কিশোরী বাড়িতে অবস্থান করছে। এছাড়া ওই কিশোরী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) জামাল পাশা আরও বলেন, এ ঘটনায় গত ১ মে নির্যাতিত মেয়েটির মামা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মো. সুমন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ মামলার আসামি একজন বিধায় সুমনকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে যদি তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রোববার দুপুরেই সুমনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।

আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসান বলেন, সুমন মোল্লা বেয়াদপ প্রকৃতির। এর আগেও ওই এলাকায় সে এ জাতীয় দুটি ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে সে দুটি ঘটনা নিয়ে মামলা হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে শালিস দরবার করে নিস্পত্তি করা হয়। এজন্য সুমনের সাহস দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ায় সে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ফরিদপুর এর সমন্বয়কারী শিপ্রা গোস্বামী বলেন, এ মামলাটির আইনগত সহায়তা দেবে ব্লাস্ট।

১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের এ ঘটনায় ফরিদপুরের বিভন্ন স্বেচ্ছাসেবী মানতাবাদীবাদী সংগঠণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জনমত গড়ে তোলা হয়। ধর্ষণের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোচ্চার হয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।



বিষয় : ধর্ষণ কিশোরী ধর্ষণ ধর্ষণের অভিযোগ

মন্তব্য করুন