বগুড়ায় বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সেই পারুল হোমিও ল্যাবরেটরিতে অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার লিটার অ্যালকোহল জব্দের পর ধ্বংস এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। র‌্যাব বগুড়া ক্যাম্পের পক্ষ থেকে শনিবার রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই অভিযানের কথা জানানো হয়। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তারা গোপনে জানতে পারেন পারুল হোমিও ল্যাবটেরিতে আবারও অ্যালকোহল ব্যবহার করে অবৈধ ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় অবস্থিত পারুল হোমিও ল্যাবরেটরিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আফজাল রাজনের নেতৃত্বে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। 

তিনি জানান, অভিযানকালে ওই ল্যাবরেটরির গোপন কক্ষ থেকে ১ হাজার ৫০০ লিটার মাদার টিংচার দ্রবণ (অ্যালকোহল) এবং সমপরিমাণ অ্যালকোল দিয়ে তৈরি ৮ হাজার ৪৫০ বোতল অবৈধ ওষুধ জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আফজাল রাজন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ওষুধ আইন ১৯৪০-এর ২৭ ধারা ভঙ্গের দায়ে ওই ল্যাবরেটরির মালিক নুরনবীকে (৫৮) ১০ হাজার টাকা জরিমান করেন।

চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি রোববার রাতে শহরের পুরান বগুড়া এলাকায় একটি বিয়ে বাড়িতে এবং শহরের কালিতলা ও ভবের বাজার এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ৬ জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী কয়েক দিনে বগুড়ার কাহালু এবং শাজাহানপুর এলাকায় আরও ১০ জনসহ মোট ১৬ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সময় বিষাক্ত মদ পানে ৮ ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানানো হয়। তখনই পুলিশি তদন্তে পারুল হোমিও ল্যাবরেটরির নাম সামনে চলে আসে। কারণ মদপানে মৃত্যুবরণকারী পরিবারের সদস্য এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা যেসব হোমিও দোকান থেকে বিষাক্ত মদ কেনার কথা জানিয়েছিলেন, সেসব দোকান মালিকরা সেগুলো পারুল হোমিও ল্যাবরেটরি থেকে কিনেছিলেন। ওই ঘটনায় পারুল হোমিও ল্যাবটেরির মালিক নুরনবীসহ ৫ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত ২১ এপ্রিল পারুল হোমিও ল্যাবটেরির লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল ঘোষণা করে।

র‌্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পারুল হোমিও ল্যাবরেটরির মত যাতে আর কেউ এ ধরনের অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে জান-মালের ক্ষতি করতে না পারে সে দিকে তাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।

মন্তব্য করুন