নওগাঁ শহরের কাজীপাড়া মহল্লায় বাড়ির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী কণ্ঠযোদ্ধা কাজী শাহিদা বেগম (৭০) ও তার মেয়ে কাজী নাজিয়া মুস্তারীকে (৩৩) মারধর, বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়; কিন্তু ছয় দিনেও সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি।

কাজী নাজিয়া মুস্তারীর অভিযোগ- বাড়িসংলগ্ন জামে মসজিদটি তাদের পূর্বপুরুষের দানের জায়গায়। সম্প্রতি মসজিদ সংস্কারের নামে পরিচালনা কমিটি আমাদের বাড়ির দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা দখল করে নেয়। এ অবস্থায় গত ৩ মে বাড়ির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু করলে ওই দিন দুপুর ১টার দিকে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর কাজী এসে প্রাচীর ভেঙে দেন। এ ঘটনায় আমার মা শাহিদা বেগম থানায় অভিযোগ দিতে যান। 

এ খবরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবারও কাজী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে তার ছেলে কাজী হাসান, দুই ভাই কাজী ইকবাল ও কাজী শিরুসহ সাত-আটজন এসে আকস্মিকভাবে আমাদের বাসায় হামলা চালায়। এ সময় তারা আমাকে মাটিতে ফেলে শরীর থেকে ওড়না কেড়ে নিয়ে গলায় প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। তারা আমার মুখ ও চোয়ালে কিল-ঘুষি মেরে জখম করে। মাথার চুলের গোছা টেনে ছিঁড়ে ফেলে আমাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে। আমাদের কেয়ারটেকার আব্দুর রাজ্জাক তাদের বাধা দিতে গেলে তাকেও লোহার দরজার সঙ্গে আছড়ে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। এই দৃশ্য দেখার পর ভয়ে আমার ছোট্ট মেয়ে ফিডোরা একটি কক্ষে লুকিয়ে থাকে। এ সময় আমার মা শাহিদা বেগম থানা থেকে বাসায় এসে পৌঁছামাত্রই তারা আমার মায়ের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং পিঠে ও হাতে অনবরত কিলঘুষি মারতে থাকে। তারা চলে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে নগদ দুই লাখ টাকা, আইফোনসহ তিনটি স্মার্টফোন নিয়ে যায়।

শাহিদা বেগম বলেন, এ ঘটনার পর ওইদিন রাতেই থানায় গিয়ে হত্যাচেষ্টা, শ্নীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু আমাদের রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখার পরও মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

কাজী মো. ইদ্রিস ওরফে জাহাঙ্গীর কাজী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেখানে নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্টো তারা মা-মেয়ে মিলে আমাদের লোজনকে মারধর করেছে। আমার পরনের শার্ট টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, যে কোনো নির্মাণকাজ করার আগে পৌরসভার প্ল্যান নিতে হয়। তারা প্ল্যান না নিয়ে জোর করে মসজিদের প্রবেশমুখে প্রাচীর নির্মাণ করা শুরু করে। মুসল্লিদের অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, যেহেতু মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ, তাই বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষই দেখবে। আর হত্যাচেষ্টা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টির তদন্ত চলছে। এটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।