নতুন করে এখন ভারত থেকে কেউ এলে তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখার মতো কোনো জায়গা খুলনা বিভাগে খালি নেই। এই বিভাগের কোয়ারেন্টিন সেন্টারগুলোতে বর্তমানে ভারত ফেরত আড়াই হাজার মানুষ রয়েছে। সে কারণে আপাতত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে কোনো বাংলাদেশিকে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন রোববার তার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।

বিভাগীয় কমিশনার জানান, গত ২৬ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ভারত থেকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ২ হাজার ৫৬৪ জন খুলনা বিভাগে এসেছে। তাদেরকে বিভাগের ৮টি জেলার বিভিন্ন কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি সেন্টারে চিকিৎসক ও জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য যশোরের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। অন্য সাতটি জেলার কোয়ারেন্টিন সেন্টারগুলোতেও প্রয়োজনে বিজিবি মোতায়েন করা হবে।

তিনি জানান, ভারত থেকে যারা দেশে এসেছে তাদের মধ্যে ১৩ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দু'জনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং চারজনের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নয়, তবে কাছাকাছি। চিকিৎসাধীন এ ১৩ জনের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।

বিভাগীয় কমিশনার জানান, পরবর্তীতে যদি ভারত থেকে করোনা পজিটিভ কেউ আসে অথবা আসার পর করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয় তাহলে তাকে হাসপাতালে এ দেশে থেকে আক্রান্তদের সঙ্গে রাখা হবে না। তাকে হাসপাতালে অন্য রোগীদের থেকে আলাদা রাখা হবে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভারত থেকে আসা লোকজনকে নিজ খরচে থাকতে হচ্ছে, এর ফলে কেউ কেউ আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। যাদের আর্থিক সমস্যা বেশি তাদেরকে সহায়তা করা হচ্ছে।

সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সুবাস চন্দ্র সাহা, অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম নাহিদুল ইসলাম ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।