ফেনীর পরশুরামের রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের ইয়াছিন আহাম্মদ (৩২) খুনের নেপথ্যে রয়েছে কষ্টিপাথর বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ। খুনের পর তার লাশ ভারতীয় সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে পাহাড়ে একটি গর্তে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। 

সোমবার সকালে ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরন্নবী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। পরে বিকালে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. সেলিম ও জামাল উদ্দীন ফেনী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরন্নবী লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ১৩ এপ্রিল ইয়াছিনকে নিজ বাড়ি থেকে কৌশলে ফেনী নিয়ে আসেন একই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মো. সেলিম (৩০)। তাকে ফেনী শহরের বনানী পাড়ার মোশাররফ হোসেনের বাসায় নিয়ে আসা হয়। বাসায় তখন আরো কয়েকজন উপস্থিত হয়। এ সময় কষ্টিপাথরের লেনদেন নিয়ে ইয়াছিনের সঙ্গে অন্যদের দর কষাকষি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সেলিম, মৃত আবুল মিয়ার ছেলে এমাম হোসেন, মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী কুসুম ও শাহানাজ  ইয়াছিনকে চেপে ধরেন। এ সময় সেলিম গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ইয়াছিনকে হত্যা করেন। পরে গভীর রাতে ইয়াছিনের লাশ জামাল উদ্দীন নামের এক সিএনজি চালকের গাড়িতে তুলে পরশুরামে অবস্থিত ভারত সীমানের জ্যোৎস্না টিলা নামের পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে নিয়ে আসা হয়। পরে সেখানে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয় লাশ। 

তিনি জানান, এদিকে ইয়াছিনকে খুঁজে না পেয়ে তার ভাই মো. হারুন পরশুরাম থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে সেটি ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। ডিবি পুলিশ শনিবার রাতে সন্দেহভাজন হিসাবে প্রথমে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। এরপর সেলিম পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার লাশের সন্ধান দেবেন বলে জানান। এরপর রোববার দুপুরে এসপি খোন্দকার নুরন্নবীর নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব পরশুরামের জোৎস্না টিলা থেকে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে।

ফেনীর ডিবি পুলিশের ওসি নুরুজ্জামান জানান, সোমবার বিকালে গ্রেপ্তার সেলিম ও সিএনজিচালক জামাল উদ্দিনকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দীন আহম্মদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তাদের পুরা বক্তব্য বিস্তারিতভাবে আদালতে লিপিবদ্ধ করা হয়। হত্যায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।