হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চুর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

তবে চেয়ারম্যান পাল্টা অভিযোগ করেছেন, ওই কর্মকর্তা ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল ছাড়েন না। এর আগেও উপজেলার সব জনপ্রতিনিধি তাকে উপজেলা সমন্বয় কমিটি থেকে বয়কট ঘোষণা করেছিলেন। এতকিছুর পরও তিনি নিজেকে সংশোধন না করায় ফোন করে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

পুঠিয়া থানায় করা জিডিতে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, গত রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। ওই সময় উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে তাকে খুন, জখম করার হুমকি দেন। এ সময় তাকে চাকরি করতে দেবেন না বলেও ভয়ভীতি দেখান। এ ঘটনায় ওইদিনই জিডি করেন আবুল কালাম আজাদ।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান যখন তাকে হুমকি দেন, তখন তার চেম্বারে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ শিক্ষক প্রতিনিধিদের কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু বলেন, আমি কি খুনি যে তাকে হত্যার হুমকি দেব? ওই কর্মকর্তা ঘুষখোর। শিক্ষকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধি তার কাছে জিম্মি। টাকা ছাড়া তিনি কোনো কাজই করেন না। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হন। আবার ঘুষ দিলে কাজ হয়। ঘটনার দিন বিল নেওয়ার জন্য এক ইউপি সদস্য তার কাছে গিয়েছিলেন। বিল না দিয়ে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আজাদ।

জিএম হিরা বাচ্চু আরও বলেন, ওই কর্মকর্তা সবার সঙ্গেই খারাপ আচরণ করেছেন। এ জন্য সমন্বয় কমিটি থেকে তাকে বয়কট ঘোষণা করা হয়। পরে স্থানীয় এমপি ডা. মনসুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে আর কখনোই এমন আচরণ করবেন না বলে ক্ষমা চান তিনি। এরপর সমন্বয় সভা হয়। এরপরও তিনি সংশোধন হননি।

পুঠিয়া থানার ওসি মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার জিডি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


বিষয় : হত্যার হুমকি হুমকি

মন্তব্য করুন