ফরিদপুরের মধুখালীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার সকালে রীমা রানী সাহা (২২) নামে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।

রীমার স্বামীর পরিবারের দাবি, অজ্ঞাত ফেসবুক আইডি থেকে মেসেঞ্জারে পাঠানো কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অপবাদ সইতে না পেরে তিনি শনিবার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে- এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা।

রীমা উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামের পলাশ কুমার সাহার স্ত্রী। পলাশ মধুখালী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী।

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার নানবার গ্রামের বাসিন্দা নিশ্চিন্ত কুমার সাহার মেয়ে রীমার চার বছর আগে বিয়ে হয়। সম্প্রতি 'সুখতারা' নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে রীমার নামে বিভিন্ন অপবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মন্ত্যব্য করা হয়।

গৃহবধু রীমার শ্বশুর প্রভাষ সাহা বলেন, কয়েক দিন আগে একটি অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে আমার মোবাইলে কল আসে। অপর পাশ থেকে বলা হয়, আমার পুত্রবধূর চরিত্র খারাপ। এক যুবকের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। জানতে চাইলেও সে তার পরিচয় দেয়নি। প্রমাণ দিতে বললে বলা হয়, প্রমাণ যেদিন দিতে পারব, সেদিনই পরিচয় জানতে পারবেন।

প্রভাষ সাহা আরও বলেন, কয়েক দিন পর আরেকটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। সেদিনও একই কথা বলা হয়। এর পর 'সুখতারা' নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে আমার নাতি (মেয়ের ছেলে) উৎসের মেসেঞ্জারে রীমাকে নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। আমার নাতি প্রমাণ চাইলেও তা দেয়নি।

প্রভাষ সাহা বলেন, কোনো প্রমাণ না থাকায় বিষয়টি রীমাকে জানানো হয়নি। হয়তো অন্য কারও কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারে রীমা। পরে মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করে।

উৎস সাহা বলেন, কয়েক দিন আগে আমার ফেসবুক মেসেঞ্জারে 'সুখতারা' নামে একটি আইডি থেকে মামি রীমাকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলা হয়। তবে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। বিষয়টি মামি জানতে পেরে অপবাদ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

মেয়ে রীমার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ছুটে এসেছেন মা শিউলি রানী সাহা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মেয়ের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে।

রীমার স্বামী পলাশ সাহার সঙ্গে কথা বলতে বাড়ি গেলে তিনি অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

মধুখালী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, রীমা কি আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, রীমাকে নিয়ে যারা মোবাইল ফোন ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিভিন্ন মন্তব্য করেছে; তাদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।



বিষয় : মধুখালী

মন্তব্য করুন