খুলনার মানুষের এক নম্বর কষ্ট পানি। কারণ, নদ-নদীর পানিতে লবণ। অনেক আগে শহরবাসীর গোসল-খাওয়া, রান্নাবান্নার কাজে পুকুর-দীঘিই ছিল ভরসা। পরে পৌরসভা আমলে আসে নলকূপ, পাশাপাশি হাদিস পার্কের পুকুরের পানি শোধন করে সীমিত আকারে সরবরাহ। তারপর সিটি করপোরেশন আমলে যোগ হয় গভীর নলকূপ। ধীরে ধীরে মানুষ বাড়ে, বাড়তে থাকে মহানগর; পাশাপাশি হারিয়ে যেতে থাকে পুকুর-দীঘি। আসে ওয়াসার আমল। কিন্তু তাদের নলকূপ-গভীর নলকূপের পানিতে মেটানো যায় না নগরবাসীর চাহিদা। আবার শুস্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে গেলে মাস তিনেক ধরে চলে হাহাকার। পরে একসময় বড় গলা করে নগরবাসীর ঘরে ঘরে 'নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো'র ঘোষণা দিয়ে বিশাল এক প্রকল্প হাতে নেয় খুলনা ওয়াসা। জনগণের আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিপুল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে ৩৪ কিলোমিটার দূরের মধুমতী নদী থেকে পানি এনে পরিশোধনের পর নগরীতে সরবরাহ শুরু করে। কিন্তু মুখে নিয়েই 'ওয়াক থু' করে ফেলে দিতে হচ্ছে সেই পানি। কারণ, লবণ!
ওয়াসার স্বঘোষিত নিরাপদ-পরিশোধিত পানিতে লবণ এলো কোত্থেকে? খুলনাবাসীর ক্ষুব্ধ জিজ্ঞাসায় তাড়িত হয়ে অনুসন্ধানে নামে সমকাল। বের হয়ে আসে জনস্বার্থে নেওয়া, জনগণের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এক অদ্ভূত প্রকল্পের গল্প।
গল্পের শুরু ও 'পানির বেড়াল'
'খুলনা পানি সরবরাহ' নামের এই মেগা প্রকল্পটি ১০ বছর আগে শুরু করে বছর দেড়েক আগে চালু করে খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশন কর্তৃপক্ষ-খুলনা ওয়াসা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি পৌঁছায় গত বছর ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু এপ্রিলেই ধরা পড়ে লবণ। হৈচৈ পড়ে গেলে পানিতে লবণের উৎস খুঁজতে নামে ওয়াসা। কিন্তু খুঁজে পায় না কিছুই। প্রথমদিকে গভীর নলকূপের পানিতে নোনা বেশি পাওয়ায় ৫৮টির মধ্যে ৫টিই বন্ধ করে দেয় ওয়াসা। তাতেও কাজ না হওয়ায় ওই মাসেই মোল্লাহাটে মধুমতী নদীর পানি উত্তোলন কেন্দ্র, রূপসার সামন্তসেনায় পানি পরিশোধন কেন্দ্র, নগরীর ভেতরে ওয়াসার ৭টি রিজার্ভার এবং বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা পানি পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, মধুমতী থেকে এনে পরিশোধন করা পানিতেই লবণ রয়েছে। পরে পানি পরিশোধন কমিয়ে গভীর নলকূপ চালু করে নগরবাসীকে পানি দেওয়া হয় কমিয়ে কমিয়ে। কিন্তু পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখে ওয়াসা। পরের মাসেই বৃষ্টির কল্যাণে নোনা কমে আসে নদীতে, আর যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ওয়াসা। কিন্তু চলতি বছর এপ্রিলে শুস্ক মৌসুমের শুরু থেকে আবার ঘটে সেই বিপত্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাপ্লাইয়ের পানিতে দেখা দেয় লবণ। সেই পানি ব্যবহার করতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন নগরবাসী। এবারও জোড়াতালি দিয়ে, সাত-পাঁচ করে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা শুরু করেছে ওয়াসা।
তবে তিন মাসের টানা অনুসন্ধানে সমকাল সেই ধামা উল্টে বের করতে পেরেছে 'পানির বেড়াল'। দেখা গেছে, রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ের একটা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা কেউ যথাযথ দায়িত্ব পালন তো করেইনি, বরং দেখিয়েছে চরম গাফিলতি, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা। প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার আগে কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হয়নি। পরিবেশবিদদের কোনো আপত্তি কানে তোলা হয়নি। এলাকাবাসীর আন্দোলন-সংগ্রামের তোয়াক্কা করা হয়নি। দূরদৃষ্টি দিয়ে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ বিশ্নেষণ করা হয়নি। সর্বোপরি জনগণের স্বার্থের দিকেও তাকানো হয়নি। প্রায় অন্ধভাবেই অদ্ভূত প্রকল্পটির কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিয়ে জনগণের অর্থ-স্বার্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে; যার কারণে নগরবাসীর সেই পুরোনো পানির কষ্টে এবার জ্বলে উঠেছে ক্ষোভের আগুন।
অনুসন্ধানে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য যেটা মিলেছে, সেটা হলো- 'খুলনাবাসীর পানির কষ্টের যে মূল কারণ লবণাক্ততা, সেটা পরিশোধনের কোনো প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা রাখা তো দূরের কথা, লবণাক্ততা নিয়ে প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো পর্যায়েই কোনো ধরনের আলোচনা-গবেষণা, প্রস্তাব-সুপারিশ কিছুই হয়নি। সম্ভাব্যতা যাচাইকারী থেকে শুরু করে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সবাই প্রকল্পের উদ্দেশ্যের প্রধান বিষয়টিই এড়িয়ে গেছেন বরাবর। এমনকি, পরিশোধনকেন্দ্রে নদীর পানির ময়লা-দুর্গন্ধ, রোগ-জীবাণু পরিশোধনের ব্যবস্থা থাকলেও রাখা হয়নি লবণাক্ততা শোধনের কোনো ব্যবস্থা।
কেন সেই ব্যবস্থা রাখা হয়নি- জানতে চাইলে পানি পরিশোধন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী আরমান সিদ্দিকী কিছু বলতে অপারগতা জানিয়ে যে কোনো বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে তার কাছ থেকে জানা যায়, লবণাক্ততার মাত্রা ৫০ থেকে ৬০০ পিপিএমের (মিলিগ্রাম পার লিটার) ভেতরে থাকলে সেই পানি ব্যবহারযোগ্য হিসেবে ধরা হয়।
তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া ওয়াসার তথ্যই বলছে, গত ১ মে মধুমতী নদীর পানিতে লবণাক্ততা ছিল ১১৩০ পিপিএম; পরিশোধনকেন্দ্র থেকে রিজার্ভারে এসে সেটা দাঁড়ায় ১০৪০ পিপিএম। এর কারণ জানা যায়, কেন্দ্রে নোনা পরিশোধের ব্যবস্থা না থাকলেও অনেক সময় রিজার্ভারে জমা থাকা শুস্ক মৌসুমের আগের পানির সঙ্গে মিশে গড়ে লবণাক্ততার মাত্রা কমে যায়। এভাবে গোঁজামিলের পরিশোধিত পানিতে গত ২ মে ১১১০ পিপিএম, ৩ মে ১১৯০, ৪ মে ১৩৮০, ৫ মে ১৪৬০ এবং সবশেষ ১৬ মে ১৮১০ পিপিএম নোনা পাওয়া গেছে বলে জানায় খুলনা ওয়াসা।
এসব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল্লাহর শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পানির সব ধরনের ক্ষতিকর উপাদান ব্যাকটেরিয়া, ভাসমান কণা, ময়লা-ঘোলা, দুর্গন্ধ সবই পরিশোধন করে পানযোগ্য করা হয়।
'কিন্তু ওই পানি তো কেউ পান করতে পারছে না মাত্রাতিরিক্ত নোনার কারণে। নোনা পরিশোধনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি কেন' জানতে চাইলে এমডি বলেন, 'নদীর পানির লবণাক্ততা দূর করে ব্যবহার করা এতটাই ব্যয়বহুল যে, এমন কিছু করার কথা কারও ভাবনায়ও আসেনি।' তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীর পানিতে লবণাক্ততা এভাবে বাড়বে, সেটা ওই সময় বোঝা যায়নি। এ ছাড়া মধুমতীর উজানের নদী গড়াই খননের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সেটা হলে মধুমতীর পানিপ্রবাহ ও লবণাক্ততা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
ওয়াসা এমডির এসব খোঁড়া যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে দেশের প্রখ্যাত পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত গত ১৭ মে সমকালকে বলেন, 'মধুমতী নদীতে লবণাক্ততা বাড়বে, এটা গত ২০ বছর ধরে আলোচনা হচ্ছে। দেশের প্রায় সব পানি বিশেষজ্ঞ এটা জানেন। এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরে এসে কেউ যদি বলে, এতটা লবণ বাড়বে আমরা জানতাম না- এটা আমি মানতে রাজি না।' জানতে চাইলে খুলনার এই কৃতী সন্তান বললেন, 'না, এ প্রকল্প নিয়ে খুলনা ওয়াসা আমাকে কখনও ডাকেনি, কোনো আলোচনাও করেনি।'
দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে খুলনা অঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার দত্ত। এই মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা চলাকালে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের সভা-সেমিনারে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন। গত ১৯ মে সমকালকে তিনি বলেন, 'আমার সঙ্গে ওয়াসার কোনো যোগাযোগ হয়নি। ওই সময় সভা-সেমিনারগুলোতে আমি তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে বলেছি, বছরের ৪-৫ মাস মধুমতী নদীর পানি ব্যবহার করা যাবে না। ভবিষ্যতে এ সংকট আরও বাড়বে। লবণ এবং উৎপাদন খরচ এত বেশি হবে যে, এক সময় প্রকল্পটি আর কাজে আসবে না।'
লবণ ঢোকেনি কারও মাথায়!
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, খুলনা অঞ্চলের মানুষ সাধারণত দুই ডিএস মিটার (ডেসি সিমেন পার মিটার) লবণাক্ততা পর্যন্ত পানি খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। কিন্তু গত ১৫-১৬ বছর ধরেই শুস্ক মৌসুমে মধুমতী নদীর পানির লবণাক্ততা সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে।
মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে গত ১৬ বছরের লবণাক্ততার তথ্য যাচাই করেছে সমকাল। সংস্থাটি লবণাক্ততা পরিমাপ করে ডিএস মিটার এককে। দেখা গেছে, মধুমতী নদীর যে জায়গা থেকে ওয়াসা পানি তোলে, সেখানে ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে লবণাক্ততা ছিল ১ দশমিক ৪ ডিএস মিটার, ২০০৬ সালের এপ্রিলে ১ দশমিক ৯ এবং মে মাসে ২ দশমিক ৯ ডিএস মিটার। আর মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপ চলাকালে ২০০৯ সালের মে মাসে মধুমতির লবণাক্ততা ছিল ৪ দশমিক ৮ ডিএস মিটার। ২০১০, ২০১১, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসেও ৪-৫ ডিএস মিটারের মধ্যেই ছিল লবণাক্ততা। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মধুমতী নদীতে লবণাক্ততার মাত্রা পাওয়া যায় ৭ দশমিক ২ এবং ৩০ এপ্রিল ৮ দশমিক ৩ ডিএস মিটার।
বিস্ময়কর ও রহস্যময় বিষয় হলো, এত ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে মৃত্তিকা সম্পদের কাছ থেকে এই অতি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের প্রয়োজনই মনে করেনি খুলনা ওয়াসা। এমনকি, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপকারী সংস্থা জাপানের এনজেএস কনসালট্যান্ট সে সময় মধুমতীর পানির লবণাক্ততা বিষয়ে প্রায় একই রকম তথ্য পেয়েছিল, কিন্তু ওয়াসা সেটাও আমলে নেয়নি আবার এনজেএসও কোনো পরামর্শ দেয়নি ওয়াসাকে।
২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩-এর ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন বিধান কুমার ভান্ডার। বর্তমানে তিনি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১৬ মে সমকালকে তিনি বলেন, 'ওই সময় ওয়াসার এই প্রকল্পের কথা শুনেছি, কিন্তু ওয়াসার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি। চাইলে হয়তো আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে পারতাম।'
তিনি আরও বলেন, হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে দূরদৃষ্টি থাকতে হবে অন্তত ৫০ বছরের। তখন নদীর পানির লবণাক্ততা, এর বৃদ্ধির হার এবং ১০-১৫ বছর পর কী হবে- এসব ভালোভাবে গবেষণা করা উচিত ছিল।
লবণ আনা হয়নি কেন?
জাপান ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) উদ্যোগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয় ২০০৯-২০১০ সালে। এ জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয় জাপানের এনজেএস কনসালট্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডকে। ২০১১ সালের মার্চে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০৯ ও ২০১০ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে ভৈরব নদের ফুলতলা, রূপসা নদীর রূপসা ঘাট এলাকা এবং মধুমতী নদীর মোল্লাহাট, বোলতরি, হরিদাশপুর ও চাপালি ঘাট এলাকার পানি পরীক্ষা করেছে সংস্থাটি। পরে জমি অধিগ্রহণ, ব্যয়সহ নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মধুমতী নদীর মোল্লাহাট পয়েন্ট থেকে পানি আনার প্রস্তাব দেয় তারা।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, মাত্র দুই বছরের তথ্য বিশ্নেষণ করেই শুস্ক মৌসুমের ১৫ দিন পানিতে লবণাক্ততা থাকবে- এমন ধারণা থেকেই প্রকল্পের নকশা তৈরি করা হয়েছে। ২০২৫ সালে খুলনার জনসংখ্যা এবং পানির চাহিদা কত থাকবে, তা বলা হয়েছে। অথচ ২০২৫ সাল নাগাদ মধুমতীর পানিপ্রবাহ কেমন থাকবে, লবণের পরিমাণ কেমন হতে পারে- তার কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।
এনজেএস কনসালট্যান্ট কোম্পানির প্রধান কার্যালয় জাপানের টোকিওতে। এত বড় প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমলে না নিয়ে কীভাবে প্রকল্প তৈরি করা হলো, তা জানতে সংস্থাটির সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ওই সময়ও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন প্রকৌশলী আবদুল্লাহ। তিনিই মূলত সার্বিক বিষয় মনিটরিং করতেন। 'নদীর পানিই প্রকল্পের মূল উপকরণ। কিন্তু তাতে লবণাক্ততার বিষয়টি কেন উপেক্ষিত হলো'- জানতে চাইলে গত ১৭ মে তিনি বলেন, জাইকা সরাসরি এনজেএসকে নিয়োগ দিয়েছিল। তারাই পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বিষয়টি আমলে নেওয়া উচিত ছিল তাদের।
'সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য ও পরিবেশবাদীদের আপত্তি ওই সময় কেন আমলে নেওয়া হয়নি' প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা জরিপ করে এনজেএস জানিয়েছিল, এপ্রিল মাসে ১০-১৫ দিন পানিতে কিছুটা লবণ থাকবে। ওই ১৫ দিনের জন্য তারা একটি রিজার্ভার তৈরি এবং আগে থেকে পানি মজুদ রাখার পরামর্শ দেয়। ওই সময় পুরো প্রস্তাব নিয়ে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং-আইডব্লিউএমের পানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক করা হয়। দেশের শীর্ষ পানি বিশেষজ্ঞরা এভাবে কাজ করার পক্ষে মত দেন।
ওয়াসার প্রকল্প চলাকালে আইডব্লিউএমের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন প্রকৌশলী ইমাদউদ্দিন আহমেদ। করোনা আক্রান্তের পর তিনি এখন বিশ্রামে রয়েছেন। তাই যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং শাখার বর্তমান পরিচালক সোহেল মাসুদ গত ১৬ মে সমকালকে বলেন, 'ওই সময় যে সিনিয়র স্যাররা ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই অবসরে চলে গেছেন। তখন আমাদের কোনো ভূমিকাই ছিল না; বর্তমান দায়িত্বরতরাও কিছু বলতে পারছেন না। এ সংক্রান্ত কোনো নথিও আমাদের কাছে নেই।'
আগামীকাল পড়ূন :তিন মাসের পানির পাকে খুলনাবাসী

মন্তব্য করুন