বছরের আট-নয় মাস বর্ষা-বাদলের আশীর্বাদে কোনোমতে চললেও শুস্ক মৌসুমের তিন-চার মাস খুলনা মহানগরবাসীর ঘরে ঘরে শোনা যায় পানির হাহাকার। এই সময় ভূগর্ভের পানির স্তর নেমে যায় নিচে; গভীর নলকূপগুলো হয়ে পড়ে অচল। উজানের পানির চাপ না থাকায় সমুদ্র থেকে জোয়ারের পানি ঢুকে লবণাক্ততা বাড়িয়ে দেয় নদীতে। নগরবাসীকে তাই পানি দিতে গিয়ে নানা ভেজাল করতে হয় ওয়াসাকে। আড়াই হাজার কোটি টাকার 'খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প' বাস্তবায়নের পর সেই ভেজাল বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। 'ভেজা মৌসুমে' মধুমতী থেকে বেশি আর নলকূপ থেকে কম পানি তুলে দুটো মিশিয়ে সরবরাহ করে রক্ষা পায় ওয়াসা। কিন্তু শুকনো মৌসুমে মধুমতীর মাত্রাতিরিক্ত নোনাপানি কমিয়ে আর নলকূপের পানি বাড়িয়ে ভেজাল করতে হচ্ছে ওয়াসাকে। কিন্তু পানিতে নোনা থাকায় রক্ষা পাচ্ছে না ওয়াসা। পাশাপাশি ওয়াসাকে পানি সরবরাহ দিতে হচ্ছে কম কম, আর নগরবাসীর গালিগালাজ খেতে হচ্ছে বেশি বেশি।

ওয়াসার দেওয়া তথ্য ঘেঁটে আর অঙ্ক কষে দেখা যায়, পানির এই চক্র সহজে থামার নয়। আসলে প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমের কম-বেশি তিন-চার মাস পানি নিয়ে এক দীর্ঘমেয়াদি দুর্বিপাকে পড়ে গেছে খুলনা মহানগরবাসী।

২০১১ সালে নেওয়া দুই হাজার ৫৫৮ কোটি টাকার 'খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প'টিতে ঋণ হিসেবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা এক হাজার ২৮৪ কোটি ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবি ৫২৩ কোটি টাকা আর বাংলাদেশ সরকার ৭৫০ কোটি টাকা দেয়। ২০১৯-এর জুলাই মাসে প্রকল্পটি চালু করার পর নগরীতে ওয়াসার গ্রাহক এখন প্রায় ৩৭ হাজার ৩০০। এর মধ্যে নিয়মিত পানি ব্যবহার করছে ২০ হাজার গ্রাহক, বাকি ১৭ হাজার অনিয়মিত। অনিয়মিত গ্রাহকরা প্রতি মাসে ১৮ ইউনিটেরও (এক ইউনিট সমান এক হাজার লিটার) কম পানি ব্যবহার করে। খুলনা সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। সেই হিসাবে নগরীর ২৫ শতাংশ গ্রাহককে নিয়মিত পানি দিতেই অবস্থা কাহিল ওয়াসার। প্রতিনিয়তই গ্রাহক বাড়ছে। আগামীতে যখন আরও বাড়বে, পাশাপাশি মধুমতী নদীর লবণাক্ততাও বাড়বে, তখন পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো হবে, তার কোনো পরিকল্পনা নেই সংস্থাটির। তাই তাদের মেগা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নটাই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

ওয়াসা ঘিরে ধোঁয়াশা

জনগণের বিপুল টাকা ব্যয় করা ওয়াসার প্রকল্পটি ঘিরে আজ যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে, খুলনার সচেতন নাগরিকদের কেউই সেটাকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অযোগ্যতা-অদক্ষতা বলে মানতে নারাজ। তাদের ভাষায়, এটা ঘটানো হয়েছে পরিকল্পিতভাবে; দুর্নীতি-অনিয়মের মাধ্যমে টাকা লুটপাটের ধান্দায়। নইলে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পানির নোনা যাবে না কেন?

চলমান করোনাকালের এই স্থবির সময়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্প সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাটের এই অভিযোগ যথার্থ তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। পরে আরও প্রতিবেদনের মাধ্যমে সেটা করার চেষ্টা চালানো হবে, তবে দেশের বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক নেতারা অকাট্য যুক্তি দিয়েই দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন কড়া ভাষায়।

খ্যাতিমান পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত গত ১৭ মে সমকালকে বলেন, আমাদের দেশে কোনো কিছুরই জবাবদিহিতা নেই। একটি প্রকল্প হলে ঠিকাদার, প্ল্যানিং কমিশন, মন্ত্রণালয়, সংশ্নিষ্ট দপ্তর- সবাই উপকৃত হয়। না হলে কেবল মধুমতী নদীর ওপর নির্ভর করে এত বড় প্রকল্প নেওয়া হলো কেন?

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশরাফ উজ জামান গত ১৭ মে সমকালকে বলেন, এ দেশে প্রকল্প মানেই টাকা। জনগণের স্বার্থে প্রকল্প নেওয়া হলেও এতে কর্মকর্তাদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় বেশি; যার কারণে যেনতেনভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেখা যায়, এটা জনগণের তেমন কোনো কাজে আসছে না। পুরো টাকাই জলে গেছে। তিনি বলেন, খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে গাফিলতি হয়েছে, তা তদন্ত করে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

নগরবাসীর এসব অভিযোগের বিষয় তুলে ধরলে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ কোনো পাত্তা তো দিলেনই না; বরং প্রকল্পটি নিয়ে তার গর্বের কথা বুক ফুলিয়ে বললেন। গত ১৭ মে সমকালকে তিনি বলেন, 'আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পুরোটাই অবান্তর; বরং এ প্রকল্পটি দেশে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। ২০১১-১২ সালে দেশে যত প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সবগুলোর ব্যয় বেড়েছে। অনেক প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণও হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু এই প্রকল্পটি। আমরা এক টাকাও ব্যয় বাড়তে দিইনি।'

বড় গলা করে ওয়াসার এমডি আরও বলেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তারপরও মানুষের পানি না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বাকি পানি কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে এমডি বলেন, কিছু পানি পাইপলাইন ও রিজার্ভারে থেকে যায়। গ্রাহক তালিকায় আসেনি- এমন অনেকেও ওয়াসার পানি ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, 'নগরীর বিভিন্ন সড়কে কাজ চলছে। প্রায়ই ওয়াসার পাইপ ফেটে যায়, বিদ্যুৎ থাকে না। এ জন্য কিছু কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা থাকে। এটা স্থায়ী নয়। আসলে পুরোনো অভ্যাসের কারণে গ্রাহকরা পানি কম পাওয়ার অভিযোগ করছেন। নগরীতে কোথাও কোনো পানির সংকট নেই।

তথ্যে-বাস্তবে বিস্তর ফারাক :খুলনা নগরীতে ওয়াসার গ্রাহক এখন প্রায় ৩৭ হাজার ৩০০ জন। শুস্ক মৌসুমে তাদের পানির চাহিদা তিন কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার লিটার। ওয়াসার দাবি, বর্তমানে তারা সরবরাহ করছেন প্রায় ছয় কোটি লিটার।

তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পর ওয়াসা থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়, তাতে বলা আছে, গত ৪ মে পরিশোধন কেন্দ্রের রিজার্ভার থেকে তিন কোটি ৪৯ লাখ লিটার এবং নলকূপ থেকে দুই কোটি ৫৮ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা হয়েছে। মাসের অন্যান্য দিনও সরবরাহের পরিমাণ এর কাছাকাছি।

কিন্তু এমডির ওই বয়ান আর আইনি প্রক্রিয়ায় পাওয়া ওয়াসার তথ্যে যে বিস্তর গরমিল, তার প্রমাণ মেলে নগরীর বিভিন্ন এলাকা এবং ওয়াসার পানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোয় সরেজমিন অনুসন্ধানে।

গত এপ্রিল ও চলতি মে মাসের বিভিন্ন সময়ে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় ৩০টি বাড়িতে গিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে বের করা হয় সত্যটা। নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শিপইয়ার্ড মোল্লাপাড়া ১২ নম্বর গলির বাসিন্দারা দেড় মাস ধরে পানির কষ্টে ভুগছেন। এক বাড়ির গৃহকর্ত্রী মুর্শিদা মিনা গত ২৮ এপ্রিল বলেন, 'কখন পানি আসবে সেই অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। আগে ১৫ মিনিটে পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্ক ভরে যেত। এখন দেড়-দুই ঘণ্টায়ও ভরে না। পানিতে হালকা লবণও পাওয়া যাচ্ছে।'

২৮নং ওয়ার্ডের টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের গাছতলা মন্দিরের আশপাশে শতাধিক পরিবার ওয়াসার পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অভিযোগের শেষ নেই তাদের। প্রায় একই সুরে অনেকে বলেন, গত ২৮ এপ্রিল সারাদিন পানি ছিল না। ২৯ এপ্রিল সকাল থেকে পানি নেই। চিনচিনে গতিতে পানি আসে। এতে রিজার্ভ ট্যাঙ্ক ভরে না। ওয়াসায় ফোন দিলেও কেউ সাড়া দেয় না।

৩০নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ টুটপাড়া জাকারিয়া রোডের ৫৫ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা হুমায়ুন কবিরের ক্ষোভ, ওয়াসার পানি পাচ্ছেন না, অথচ বিল দিতে হচ্ছে। পানির কষ্টের কথা ওয়াসার কর্মকর্তাদের দুই-তিনবার বলার পরও কেউ আসেনি।

গত ১৩ মে নগরীর ছোট বয়রা এলাকায় কয়েকটি বাসায় গিয়ে ওয়াসার পানি মুখে দিয়ে পানের অযোগ্য নোনা টের পাওয়া গেছে। ১৬ মে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে ডাক্তারপাড়ার বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম বলেন, 'ঈদের দু'দিন আগে থেকেই সরবরাহের পানি অতিরিক্ত নোনার কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ওয়াসার পানি বন্ধ রেখে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তুলছি।'

লবণচরা রিজার্ভার থেকে নগরীর ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাড়ে প?াঁচ হাজার গ্রাহককে পানি দেওয়া হয়। সেখানেও শোনা গেল পানি সংকটের কথা। ওয়াসার ছোট বয়রা, রায়ের মহল রিজার্ভার ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে।

ধামাচাপার চেষ্টা জোড়াতালিতে :ওয়াসার পরিশোধন ও সরবরাহ কেন্দ্র, উৎপাদক নলকূপ ঘুরে এবং প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে পরিশোধিত এবং নলকূপের পানি যৌথভাবে সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থাৎ দিনের কিছু সময় রিজার্ভার থেকে পরিশোধিত পানি দেওয়া হচ্ছে। বাকি সময় উৎপাদক নলকূপ থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

নগরীতে ওয়াসার সাতটির মধ্যে চারটি রিজার্ভার ঘুরে এবং রেজিস্টার ঘেঁটে পানি আগের চেয়ে কমিয়ে সরবরাহ করার তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন বাজার রিজার্ভার থেকে ওয়াসার জোন-৪ এর ২০, ২১, ২২, ২৩ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে পানি যায় তিন হাজার ৮০০ গ্রাহকের কাছে। গত এক মাস ধরে তারা পানি সংকটে ভুগছেন। এই রিজার্ভারের রেজিস্টারে দেখা যায়, গত ৩ মে সরবরাহ করা হয়েছে তিন হাজার ৩৯৪ কিউবিক মিটার পানি আর ৪ মে তিন হাজার ৩৯৯ কিউবিক মিটার (১ কিউবিক মিটার সমান এক হাজার লিটার)।

অথচ ঠিক এক মাস আগে ৪ এপ্রিল সরবরাহ করা হয়েছে চার হাজার ৩১ ও ৫ এপ্রিল চার হাজার ২৭৬ কিউবিক মিটার। এক মাস আগে ৫ মার্চ দেওয়া হয় চার হাজার ৮৪৫ কিউবিক মিটার পানি।

একইভাবে লবণচরা রিজার্ভারে গিয়ে দেখা গেছে, গত ২ মে দুই হাজার ৮০, ৩ মে তিন হাজার ৯১০ এবং ৪ মে তিন হাজার ৪৯৫ কিউবিক মিটার পানি দেওয়া হয়েছে। অথচ এক মাস আগে ৫ এপ্রিল পানি দেওয়া হয়েছিল পাঁচ হাজার ৫৮৮ কিউবিক মিটার।

দেখা গেছে, রিজার্ভার থেকে দেওয়া পানির গতি থাকে বেশি। কিন্তু নলকূপের পানির গতি কম। দিনের বেশিরভাগ সময় নলকূপ চালালেও সেই পানি গ্রাহকদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায় না। দিনের যেটুকু সময় রিজার্ভার চলে, মানুষ ওই সময়টুকুর জন্যই অপেক্ষা করে থাকে।

খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রথম পরিচালক ছিলেন তৎকালীন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জগলুল হায়দার চৌধুরী। ২০১১ সালের পর তার চুক্তির মেয়াদ আর বাড়েনি। সমকালকে তিনি বলেন, 'সঠিক পরিকল্পনাতেই কাজ হয়েছে। শুরু থেকেই এপ্রিল মাসে লবণ পানির আশঙ্কা ছিল। এজন্য পরিশোধিত পানির পাশাপাশি উৎপাদক নলকূপ থেকে পানি তুলে ভাগাভাগি করে সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছিল জাপানের এনজেএস। এখন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে আমার জানা নেই।'

প্রকল্পের দ্বিতীয় পরিচালক ছিলেন প্রকৌশলী নুরুল আফসার। চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে প্রেষণে এসে তিনি কিছু দিন পর চলে যান। তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক ছিলেন খুলনা ওয়াসার বর্তমান উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ডি কামাল আহমেদ। কিন্তু প্রকল্পের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। যে কোনো বিষয়ে বক্তব্য ও তথ্য নিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

যত দোষ জলবায়ুঘোষ! :এসব সংকটের সমাধান কী- প্রশ্ন করলে ওয়াসার এমডি বলেন, গত এক যুগে জলবায়ু এমনভাবে পরিবর্তন হয়েছে যে, আগের কোনো সমীক্ষাই কাজে লাগছে না। মধুমতী নদীর পানিপ্রবাহ বাড়াতে উজানের গড়াই নদী ড্রেজিং করতে হবে। এটা সরকারের পরিকল্পনায় আছে। এ ছাড়া আমরা আরও একটি রিজার্ভার নির্মাণ করে লবণাক্ততা বৃদ্ধির আগে নদী থেকে পানি এনে সেখানে মজুদ রাখার চিন্তা করছি। আপৎকালীন সময়ে সেই পানি দিয়ে কাজ চালানো হবে। তিনি বলেন, এই সংকট পুরোটাই প্রাকৃতিক। জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর তো কারও হাত নেই।

ওয়াসাপ্রধানের এই কথা শুনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, 'উদ্ভূত সমস্যা নিয়ে যারা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন, তারা দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। ওয়াসার এই মেগা প্রকল্পে প্রতিদিন নদী থেকে ১১ কোটি লিটার পানি আনা হচ্ছে। সবাই জানে, উজান থেকে পানি আসা দিন দিন কমছে। শুস্ক মৌসুমে তো উজানের পানিপ্রবাহ থাকেই না। তাহলে এই পানি আসবে কোত্থেকে? নিশ্চয়ই সমুদ্র থেকে আসবে জোয়ারের পানি। আর সমুদ্রের পানি যে লবণাক্ত, সেটা কে না জানে!'

খুলনা অঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে প্রায় জীবনভর কাজ করা অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্তের এই মন্তব্যের পাশাপাশি মেগা প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই জরিপ রিপোর্ট ঘেঁটেও দেখা গেছে, সেখানে প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে স্পষ্ট বলা আছে- খুলনায় পানি সরবাহের এমন একটি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা, যেটি হবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব-সহনশীল।

খুলনা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী আবদুল্লাহর কাছে তথ্যটি উপস্থাপন করা হলে তিনি আর কিছু না বলে কিছুক্ষণ 'অ্যাঁ উঁ, হ্যাঁ হুঁ' করে চুপ হয়ে যান।