কক্সবাজারের টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বা নেচার পার্ক রক্ষায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলায় ১২টার দিকে ‘আমরা জান দেব, তবুও নেচার পার্ক দেব না’ স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ টেকনাফ রেঞ্জের সহব্যবস্থাপনা কমিটি ও সিপিজিসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। 

মানবন্ধনের সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নুরুল বশর, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী, হ্নীলা ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী, আওয়ামী লীগ নেতা গুরা মিয়া সহ স্থানীয় বাসিন্দা, খেলোয়াড়, পরিবেশ কর্মী ও সিপিজি সদস্যসহ অনেকে অংশ নেন। 

এসময় কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ টেকনাফ রেঞ্জের সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নুরুল বশর বলেন, টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিনোদনের জন্য তেমন কোন স্থান নেই। বনবিভাগের মাধ্যমে আমরা দমদমিয়াস্থ ‘বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য’ এলাকাটি নেচার পার্ক হিসেবে পেয়েছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা, স্থানীয় বাসিন্দাসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকরা প্রতিনিয়ত নেচার পার্কে আসেন এবং পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীববৈচিত্র উপভোগ করেন।’

তিনি বলেন, ‘তাছাড়া পার্কের ভেতরে থাকা একটি মাঠে স্থানীয়রা নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করেন। কিন্তু পার্কটি রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দখল করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে কে বা কারা পার্কটি সংরক্ষিত এলাকায় পরিণত করতে সেখানে লাল পতাকা টাঙ্গিয়েছে। তবে পার্কটি আমরা টেকনাফবাসী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও পর্যটন স্পট হিসেবে চাই।’

নেচার পার্ক রক্ষায় মানববন্ধনে অংশ নেয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ‘আমার এলাকার স্থানীয় যুবক ও স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা মাদক ছেড়ে নেচার পার্কের মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করতেন। এখন ওই মাঠে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়ায় কেউ সেখানে খেলাধুলা করতে যেতে পারছে না। মাঠটি স্থানীয়দের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও নেচার পার্ক রক্ষায় কাজ করা সহব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদরা জানান, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আগমণের পর নেচার পার্ক সংলগ্ন বনভূমিতে বেশকিছু বসতি স্থাপন হয়েছে। রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত পার্কের ভেতরে গাছপালা কাটছে ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড সংগঠিত করছে। ফলে ভয়ে এখন সেখানে দর্শণার্থীরা যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এছাড়া অচিরেই পার্কের জীববৈচিত্র ধ্বংস হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।