নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জায়েদুল হক কচিসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বুধবার রাতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। র‌্যাব, দাঙ্গা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ টহল দিচ্ছে।

জায়েদুল হক কচির ভাগিনা মো. হাসান অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার পাশে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জাহান ট্রেডার্স বন্ধ করে কচি বুধবার রাত ১০টার দিকে রাস্তার পূর্ব পাশে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লিটনের সঙ্গে নিউ মা ফার্মেসিতে বসে ছিলেন। এ সময় কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্ছা রাসেল, ওয়াসিম, মানিক, শিপন, শিহাব খান ও ফখরুলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কচি, লিটন ও দোকানদার রতন চন্দ্র দাস গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কিরিচ দিয়ে কচি ও লিটনের মাথায় কোপায় এবং রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত করে। এ সময় দোকান ভাঙচুর করে তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় কচি ও লিটনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে কাদের মির্জার অনুসারী স্বপন মাহমুদ বলেন, কচি ও আরমানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বসুরহাট বাজারে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়েছে। একপর্যায়ে তারা পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়ে আমাদের দলের সারওয়ার, সবুজ, সুজন, সৌরভ, ওয়াসিম ও মানিকসহ আটজনকে পিটিয়ে আহত করেছে।

অন্যদিকে কাদের মির্জার অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে তার বাড়িতে ককটেল হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, বুধবার রাত ১টার দিকে প্রতিপক্ষের আরমান ও জুয়েলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা চালায়।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কচি ও লিটনের ওপর প্রতিপক্ষের ১৫-১৬ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে। ভুক্তভোগীরা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।