'স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে' হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় কিশোরী। হাসপাতালের মৃত্যু সনদও তাই বলছে। কিন্তু প্রায় চার বছর আগে মায়ের সঙ্গে ডিভোর্স হওয়া বাবা অভিযোগ করছেন, মেয়ের মৃত্যু হয়েছে ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর ফলে। তাতে অভিযুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও তরুণীর মাসহ পাঁচজনকে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও করেছেন তিনি। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নে এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের মো. স্বপন একই ইউনিয়নের আমোদপুর গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে আছমার সঙ্গে সংসার পাতেন। তাদের সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে ছিল। ২০১৭ সালে স্বামীকে ডিভোর্স দেন আছমা। এর পর থেকে উচাখিলা বাজারে কৃষি বিভাগের পরিত্যক্ত সিড স্টোরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন আছমা। সন্তানদের নিজের কাছে নিতে কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্বপন। এর মধ্যে আছমা বড় মেয়েকে বিয়েও দেন। দ্বিতীয় মেয়ে স্বর্ণা (১৬) কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিল।

মাথায় যন্ত্রণা হওয়ায় গত ২০ এপ্রিল উচাখিলা বাজারে একজন চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে ১ মে ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেপে চিকিৎসা করানো হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১০ মে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন রাত ১টার দিকে মারা যায় স্বর্ণা। হাসপাতালটির মৃত্যুসনদে বলা হয়- 'যক্ষ্ণার জীবাণু শরীরে ছড়িয়ে পড়া এবং এই জীবাণু ব্রেইনের রক্তনালিতে বাসা বাঁধার কারণে ইশকেমিক স্ট্রোক মৃত্যুর কারণ।' মৃত্যুসনদ দেখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. লিমাত বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কিন্তু কিশোরীর বাবা মো. স্বপন গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছেন। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়- 'মায়ের সহায়তায় উচাখিলা ইউপি চেয়ারম্যান বিয়ের প্রলোভনে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভপাত ঘটানো হয়। তাতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে সে মৃত্যুবরণ করে।' আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে এফআইআর করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন থানার ওসিকে।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ভাতিজা নায়েব এ জাহান মনী। ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য একটি মহলের প্ররোচনায় মানহানিকর মামলাটি করা হয়েছে।

কিশোরীর মা আছমা জানান, তার মেয়ে স্ট্রোকে মারা গেছে। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে স্বপন মিথ্যা মামলা করেছেন। প্রতিকার চেয়ে তিনিও আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলার বাদী স্বপন বলেন, লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করলেই বিষয়টি পরিস্কার হবে।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল কাদির মিয়া বলেন, আদালত থেকে তারা কোনো আদেশ এখনও পাননি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।