বুধবার ভোরে বাবা-মা যখন ঝগড়া করছিল তখন ঘুম ভেঙে যায় ১০ বছরের তুষারের। এক পর্যায়ে দু'জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। মায়ের দু'হাত বেঁধে ফেলে বাবা। বের করে ছুরি। এ অবস্থা দেখে মাকে বাঁচাতে ছোট্ট তুষার দরজা খুলে পাশের কক্ষে থাকা দাদা-দাদিকে ডেকে আনতে যায়। কিন্তু ফিরে এসে দেখে, মায়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে আছে। পাশেই ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে বাবা হীরা চৌধুরী।

বুধবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পূর্ব লামাপাড়া এলাকার নিজ ফ্ল্যাটে হীরা চৌধুরী গলা কেটে হত্যা করে স্ত্রী তানজিদা আক্তার পপিকে (২৯)। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাদের বড় ছেলে তুষার পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে এসব তথ্য দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ হীরাকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে পপিকে হত্যার ঘটনায় তার ছোট ভাই মো. শাকিল বাদী হয়ে বুধবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় হীরা চৌধুরীকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে হীরা চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবীরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতে হীরা জানিয়েছে, স্ত্রী পপির সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন মোটেই সুখের ছিল না। এ কারণে প্রায় রাতেই তাদের ঝগড়া হতো। ঘটনার দিন ভোরেও ঝগড়া শুরু হলে প্রচণ্ড ক্ষোভ থেকে হাত বেঁধে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে সে।

নিহত পপির ভাই শাকিল সমকালকে বলেন, তারা দুই ভাই, এক বোন। পপি সবার বড়। ১৩ বছর আগে হীরার সঙ্গে পারিবারিকভাবে পপির বিয়ে হয়।