ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় হাতি তাড়াতে গিয়ে প্রাণ গেছে এক আদিবাসী ব্যক্তির। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম অপূর্ব চাম্বুগং (৪২)।

অন্তত ২০ দিন ধরে সীমান্তের গ্রামগুলোতে তাণ্ডব চালাচ্ছে হাতি। এক দশক ধরে সীমান্ত দিয়ে হাতি প্রবেশের কারণ হিসেবে তিন কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকাকে দায়ী করেছেন প্রশাসন ও স্থানীয়রা।

সীমান্তের অনেকেই জানান, খাবারের সন্ধানে গ্রামে হানা দিচ্ছে হাতি। প্রাণ বাঁচাতে হাতি তাড়া করে বেড়াচ্ছেন মানুষ। ফলে মানুষ ও হাতির মধ্যে যেন হানাহানি চলছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে হালুয়াঘাটের ভুবনকুড়া ইউনিয়নের বানাইচিরিঙ্গীপাড়া, রঙ্গমপাড়া, জখমকুড়া ও ধোপাজুরি গ্রামে হাতির পালের তাণ্ডব শুরু হয়। গ্রামগুলোতে ১০টি প্রতিরক্ষা দলে মশাল, টর্চলাইট, পটকা ও টিন পিটিয়ে উচ্চ শব্দে তাড়া করা হয় হাতিকে। দল বেঁধে হাতি তাড়ানো শেষে ফেরার পথে শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তের মায়াঘাসি পানিহাতা এলাকায় পেছনে পড়ে যান ওই গ্রামের অপূর্ব চাম্বুগং।

ওই সময় লুকিয়ে থাকা হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয় তার। অপূর্ব বিয়ের পর সেখানে বসবাস করতেন। তিনি হালুয়াঘাটের ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের বড়কুমুরিয়া গ্রামের সুকেন ঘাগ্রার ছেলে।

হালুয়াঘাটের জখমকুড়া গ্রামের জ্যাকব রিছিল বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার হাতির সংখ্যা অনেক বেশি। ভুবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সুরুজ মিয়া বলেন, বন বিভাগ বা সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তের সবটা জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও তিন কিলোমিটার এলাকা ফাঁকা। কী কারণে বেড়া দেওয়া হয়নি, সেটি তাদের অজানা।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, হাতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। নালিতাবাড়ী থানার ওসি বছির আহম্মেদ জানান, অপমৃত্যু মামলা শেষে শুক্রবার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হালুয়াঘাট ইউএনও রেজাউল করিম বলেন, বানাইচিরিঙ্গীপাড়ায় দুই কিলোমিটার এলাকা ও নালিতাবাড়ীর পানিহাতা এলাকার এক কিলোমিটার এলাকায় নেই কাঁটাতারের বেড়া। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহম্মদ এনামুল হক বলেন, স্থানীয়ভাবে হাতির উপদ্রব রোধে চেষ্টা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিরঞ্জন দেবনাথ বলেন, এলাকাটিতে কাঁটাতারের বেড়া ও কিছু অংশ ইলেক্ট্রিফাইড করে হাতি যেন তাড়া খেয়ে চলে যায়, সে ধরনের একটি প্রকল্প নেওয়ার কথা ছিল। সেটির বিষয়ে তিনি এখন কিছু বলতে পারছেন না।

মন্তব্য করুন