কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করে বলেন, 'শনিবার রাতে এএসপি, ওসি, ইউএনও, এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে কবিরহাট থেকে ৩০-৪০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালিয়েছে এবং গুলিবর্ষণ করেছে। এতে আমার দলের ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এসপি ও ডিসির নির্দেশে এগুলো করেছে।'  

রোববার সকাল ১০টায় বসুরহাট পৌরসভার বঙ্গবন্ধু চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

কাদের মির্জা বলেন, 'তারা ওবায়দুল কাদেরকে সরিয়ে, আমাদের সরিয়ে, সাংবাদিক মুজাক্কির ও আলাউদ্দিন হত্যাকারী বাদইল্লা (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল) ও রাহাইত্তাকে (সেতুমন্ত্রীর ভাগিনা ফখরুল ইসলাম রাহাত) দিয়ে কোম্পানীগঞ্জে একরামের (এমপি একরাম চৌধুরী) রাজত্ব কায়েম করতে চায়। এটা কি চলতে দেওয়া যায়? আমরা আমাদের রক্ত দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। মুজাক্কির ও আলাউদ্দিনের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। এদেরকে বাদল নিজ হাতে হত্যা করেছে, আর মামলা দেয় আমাদের নামে।'

তিনি বলেন, 'আজকে তারা নোয়াখালীর এমপি একরাম চৌধুরীর লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে কোম্পানীগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। কারণ, ডিসি-এসপি প্রতিদিন একরাম চৌধুরীর থেকে ১০ লাখ টাকা পায়। এএসপি, ওসি, ইউএনও, এসিল্যান্ড ১০ লাখ টাকা করে পায়। স্থিতিশীলতা এলে তাদের টাকা আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এ জন্য সন্ত্রাসীদের দিয়ে তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়।'

এর আগে শনিবার রাত ১০টায় তার একান্ত সহকারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক আইডিতে এসে সেতুমন্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কাদের মির্জা বলেন, 'এএসপি, ওসি, ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। অন্যথায় সবকিছুর দায়দায়িত্ব আপনাকে বহন করতে হবে। আপনি আমাকে বলেন, আমি যেভাবে বলব, সেভাবে হবে। আমার প্রতিপক্ষ অপরাজনীতির হোতাদের বলেন, তারা যেভাবে বলবে, সেভাবে হবে। আসলে আপনি কী চান? আমি বলেছিলাম, চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় যাব, কিন্তু এখন আর যাব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলব। আমিও এর শেষ দেখে নেব।'

মন্তব্য করুন