ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নির্বাচন ঘিরে বরিশাল আ’লীগে বিরোধ

মহানগর সভাপতির বক্তব্যে ক্ষুব্ধ নৌকার কর্মী-সমর্থকরা

নির্বাচন ঘিরে বরিশাল আ’লীগে বিরোধ

ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:২০

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে দলের প্রার্থিতা নিয়ে আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর গত ১২ জুনের সিটি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এতে ক্ষুব্ধ নৌকার প্রার্থী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম ও সিটি মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহর সমর্থকরা। জাহাঙ্গীরের বহিষ্কার দাবিতে দু’দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন তারা। একই দাবিতে আজ শনিবার তারা নগরীতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। 

দলের মনোনয়নবঞ্চিত মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির বড় ছেলে। মহানগরের সভাপতি জাহাঙ্গীর সাদিকের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সাদিকের একক দাপটের সময় জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এবং গত ডিসেম্বরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হন। 

অন্যদিকে নৌকার প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী শামীমকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন সিটি মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। তিনি হাসানাত আবদুল্লাহর ছোট ভাই ও সাদিকের চাচা। গত ১২ জুনের সিটি নির্বাচনেও চাচার প্রার্থিতায় সাদিক মনোনয়নবঞ্চিত হন। 

গত বুধবার উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশের নামে সাদিকের পক্ষে বড় শোডাউন করে মহানগর আওয়ামী লীগ। সভাপতি জাহাঙ্গীর বক্তৃতায় নৌকার প্রার্থীর উদ্দেশে বলেন, ‘এবার খালি মাঠে কাউকে গোল দিতে দেওয়া হবে না, প্রশাসন দিয়ে আপনার বক্স ভরবেন, সেই সুযোগ নেই। সিটি নির্বাচনে আমাদের গাধা বানিয়েছে। এবার খেলা হবে। জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাবে।’ 

এ বক্তব্য নিয়ে দু’দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা করছেন প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র অনুসারীরা। নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন ফেসবুকে লেখেন, ‘জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে সংগঠনবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর বিচার চাই।’ কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব লেখেন, ‘তিনি জামায়াতের দালাল, তাঁকে বহিষ্কার করা দরকার।’ 

নৌকার প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের ঘনিষ্ঠ মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন বলেন, ১২ জুন ইভিএম পদ্ধতিতে সিটি ভোট হয়। সেই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নগর সভাপতি জাহাঙ্গীর প্রশ্ন তুলেছেন। জাতীয় নির্বাচনেও প্রশাসন দিয়ে ব্যালট ভরার কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বহিষ্কার দাবিতে শনিবার বেলা ১১টায় নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। 

এ বিষয়ে মহানগর সভাপতি জাহাঙ্গীর জানান, তিনি শান্তি সমাবেশে যা বলেছেন, সঠিক বলেছেন। তাঁর বক্তব্য শুনলেই বোঝা যাবে কী বলতে চেয়েছেন। এটি নিয়ে যারা হেয়প্রতিপন্ন করতে চায়, তারা কারা? 
সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ বলেন, মহানগর সভাপতি বিতর্কিত মন্তব্য করে সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এটি শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। দায়িত্বশীল চেয়ারে থেকে এ ধরনের মন্তব্যে আওয়ামী লীগের ক্ষতির বিষয়টি দলীয়ভাবে দেখা উচিত। 

আরও পড়ুন

×