ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ঈশ্বরদীতে ট্রেনে আগুনের নির্দেশদাতা বিএনপি নেতার দুই ভাই

পুলিশের দাবি

ঈশ্বরদীতে ট্রেনে আগুনের নির্দেশদাতা বিএনপি নেতার দুই ভাই

ফাইল ছবি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:২০

অবরোধের মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে গত ২৭ নভেম্বর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সুমন হোসেন নামে এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাকার বিনিময়ে ওইদিন সুমন ও তার সহযোগীরা ট্রেনে আগুন দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। 

আগুন দেওয়ার সময় সুমনও সামান্য দগ্ধ হন। এ ছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণ ও হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর আপন দুই ভাই জড়িত বলেও পুলিশ দাবি করেছে।

গ্রেপ্তার সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী এক ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন। 

তিনি জানান, ২৯ নভেম্বর ঈশ্বরদীর ফতে মোহাম্মদপুর রেলওয়ে হাসপাতালের সামনে থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সুমন ঈশ্বরদী পৌর এলাকার রহিমপুর গার্লস স্কুল মহল্লার তাইজুল ইসলামের ছেলে। ২৭ নভেম্বর রাতে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন এলাকার ওয়াশফিটে দাঁড়িয়ে থাকা মেইল ট্রেনে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় মামলা হওয়ার পর অভিযানে নামে পুলিশের একাধিক দল। এ সময় ট্রেনে আগুন দিতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া সুমন বাসা থেকে ওষুধ কিনতে এলে সেই সূত্র ধরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে সুমনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ট্রেনে আগুন দেওয়ার রহস্য বেরিয়ে আসে। পুলিশের কাছে সুমন অপরাধ স্বীকার করেছেন। 

পুলিশ সুপারের দাবি, অর্থের বিনিময়ে ট্রেনে আগুন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকারিয়া পিন্টুর দুই ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল। এ ঘটনার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তারা হলেন ঈশ্বরদী পৌর যুবদল নেতা শাহীন হোসেন, সদস্য রুবেল হোসেন, মামুন হোসেন ও রাসেল হোসেন। তাদেরসহ পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 
দুষ্কৃতিকারীরা যাতে আবার ট্রেনে আগুন দিতে না পারে, সে জন্য জংশন এলাকায় অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি স্থাপন, সাদা ও পোশাকী পুলিশসহ আনসার সদস্য বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×